শাড়ি পরে চটিহাতে অভাবের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই! দুস্থ বিধবার এই তাক লাগানো দৌড় দেখে কেঁদে ফেলবে দেশ

বালির ঢালু মাঠে খালি পায়ে দুস্থ বিধবার তাক লাগানো দৌড়, করতালি দিয়ে উঠল গোটা দেশ! নেপথ্যের গল্প চোখে জল এনে দেবে
অভাব আর প্রতিকূলতা যতই গ্রাস করুক না কেন, জেদ আর আত্মবিশ্বাসের জোরে যে সমস্ত বাধাকে পেরিয়ে যাওয়া যায়, তার এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন ঝাড়খণ্ডের এক দুস্থ বিধবা। নীল রঙের শাড়ি পরিহিতা, কোমরে আঁচল গোঁজা এক নারী যখন নিজের চটি খুলে খালি পায়ে ১,৬০০ মিটারের দৌড় সম্পন্ন করলেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম ফেটে পড়েছিল করতালিতে। হোম গার্ড নিয়োগ পরীক্ষার ট্রায়ালের সেই মুহূর্তের ভিডিওটি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের বেগে ভাইরাল।
ভাইরাল এই মহিলার নাম কবিতা কুমারী। ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার সোসো গ্রামের বাসিন্দা এই স্বামীহারা নারী পেটের টানে ও সংসারের হাল ধরতে হোম গার্ডের চাকরির জন্য মরিয়া হয়ে লড়ছেন। সম্প্রতি সিধু কানু স্টেডিয়ামে একটি ফ্রিতে প্র্যাকটিস রান বা মহড়ার আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে ট্র্যাকস্যুট, পেশাদার রানিং শু এবং জলের বোতল হাতে প্রতিযোগীরা হাজির থাকলেও, কবিতার পরনে ছিল নিতান্তই সাধারণ শাড়ি আর পায়ে ছিল না কোনো দামি জুতো। কিন্তু নিজের অদম্য শক্তির জোরে তিনি বাকিদের পেছনে ফেলে নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগেই ৮ মিনিটে লক্ষ্য পূরণ করেন এবং অর্জন করেন ‘এক্সিলেন্ট’ গ্রেড।
খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, কবিতার জীবনের গল্পটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ২০০৯ সালে নাবালক বয়সে বিয়ে হওয়ার পর, কোভিডের সময় তাঁর স্বামী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২০২৩ সালে মারা যান। স্বামীর চিকিৎসার পেছনে লক্ষাধিক টাকার ঋণ এবং পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব এখন তাঁর একাই কাঁধে। ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে এবং ইউটিউব দেখে একা একাই এই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। তাঁর এই লড়াকু মানসিকতা এবং অভাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্প এখন গোটা দেশের মন জয় করে নিয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বেশ কয়েকজন শুভানুধ্যায়ী ও স্থানীয় বিধায়ক তাঁর সহায়তার জন্য ইতিমধ্যেই এগিয়ে এসেছেন।