অগ্নিগর্ভ ফ্রান্স! স্কুল পুড়িয়ে দেওয়া থেকে ১৮০০ গ্রেফতার—হঠাৎ কেন ফুঁসে উঠল Gen Z?

পরিকাঠামোর বেহাল দশা এবং নিম্নমানের শিক্ষার প্রতিবাদের জেরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। দেশটির স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জীর্ণ দশা এবং শিক্ষক সংকটের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা। প্যারিসসহ গোটা দেশে ইতিমধ্যেই ৫০০-র বেশি স্কুলের পঠনপাঠন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালীন দফায় দফায় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে।

পরিস্থিতির জেরে ফ্রান্সের প্রায় ৭৩৫টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। বিক্ষোভ ঠেকাতে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৮০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ, ক্লাসরুমে পর্যাপ্ত জায়গা নেই, শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর তীব্র অভাব রয়েছে এবং জীর্ণ স্কুল ভবনগুলো যে কোনো মুহূর্তে বড় বিপদের কারণ হতে পারে। গত সোমবার দক্ষিণ ফ্রান্সের লেন্স শহরে সংঘর্ষের সময় এক ১৫ বছর বয়সি শিক্ষার্থীর হাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নেয়। অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের এই দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে পথে নেমেছেন।

তবে এই ছাত্র বিক্ষোভকে সম্পূর্ণ ভিন্ন মোড় দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক মাধ্যম হ্যান্ডেলে তিনি দাবি করেছেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে তা আদতে কোনো স্কুল বা পরিকাঠামোর সমস্যা নয়; এর নেপথ্যে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত ‘গণ অভিবাসন’ এবং ইসলাম। মার্কিন নির্বাচনে মধ্যবর্তী ভোটের আগে ট্রাম্পের এই দক্ষিণপন্থী মন্তব্য বিশ্বজুড়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে প্রতিবেশী দেশ বেলজিয়ামেও এই আন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। লিয়েজ শহরে বিক্ষোভের জেরে প্রায় ৩০ জন ছাত্রকে আটক করা হয়েছে। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এই ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং তাঁর প্রশাসনকে চরম রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলে দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার দ্রুত বড় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও, উত্তপ্ত ফ্রান্সের রাজপথ শান্ত হওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *