প্যারামাউন্ট-ওয়ার্নার ব্রাদার্স চুক্তি হল ১১ হাজার কোটি ডলারে, দুনিয়া কাঁপাতে এল নতুন সাম্রাজ্য

বিশ্ব বিনোদন জগতের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সম্পন্ন হলো হলিউডের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম একত্রীকরণ চুক্তি। দীর্ঘ প্রায় এক বছরের নানা জল্পনা-কল্পনা, কড়া নিয়ামক সংস্থার বাধা এবং নেটফ্লিক্সের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সফলভাবে পেছনে ফেলে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হলো প্যারামাউন্ট এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির (ডব্লিউবিডি) এই মেগা মার্জার। প্রায় ১১ হাজার কোটি ডলার মূল্যের এই চুক্তির মাধ্যমে হলিউডে জন্ম নিল একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী এক নতুন বিনোদন সাম্রাজ্য।
নতুন এই বিশাল সংস্থার পোশাকি নাম রাখা হয়েছে ‘স্কাইড্যান্স’। এই চুক্তির ফলে বিশ্বের প্রাচীন ও প্রভাবশালী দুটি প্রধান ফিল্ম স্টুডিওর পাশাপাশি সিবিএস, সিএনএন, এমটিভি এবং কমেডি সেন্ট্রালের মতো জনপ্রিয় টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি চলে গেছে স্কাইড্যান্সের হাতে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ওটিটি দুনিয়ায় দাপট বিস্তার করা জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘এইচবিও ম্যাক্স’ এবং ‘প্যারামাউন্ট প্লাস’ও চলে এল একই মালিকানার অধীনে।
বিশাল পোর্টফোলিও ও কনটেন্টের পাহাড়
নতুন আত্মপ্রকাশ করা এই মেগা কোম্পানির হাতে এখন রয়েছে বিশ্বের কিছু সর্বকালের সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজি ও স্বত্ব। স্কাইড্যান্সের বিশাল পোর্টফোলিওতে যুক্ত হয়েছে ডিসি (DC) কমিক্স, হ্যারি পটার এবং গেইম অফ থ্রোনস-এর মতো বিশ্বজোড়া জনপ্রিয় টাইটেল। এছাড়াও রয়েছে মিশন ইম্পসিবল, লর্ড অফ দ্য রিংস, স্টার ট্রেক, লুনি টিউনস এবং স্পঞ্জবব স্কয়ারপ্যান্টসের মতো ব্লকবাস্টার সব কনটেন্ট।
পাশাপাশি টিএনটি, অ্যাডাল্ট সুইম, কার্টুন নেটওয়ার্ক এবং নিকেলোডিয়নের মতো চ্যানেলগুলিও এখন একই কোম্পানির ছাতার নিচে চলে এসেছে। নতুন কোম্পানির ঘোষণা অনুযায়ী, তারা প্রতি বছর বড় পর্দায় অন্তত ৩০টি সিনেমা এবং ১৮০টিরও বেশি টিভি শো ও সিরিজ মুক্তি দেওয়ার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
শেয়ার বাজারে বড় পরিবর্তন ও আর্থিক চ্যালেঞ্জ
এই ঐতিহাসিক মার্জারের প্রভাব সরাসরি দেখা গেছে পুঁজিবাজারেও। মঙ্গলবার থেকেই নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে ‘এসকেওয়াইডি’ (SKYD) প্রতীকে নতুন কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, নাসডাক এক্সচেঞ্জ থেকে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির শেয়ারের লেনদেন আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মার্জারের পর নতুন এই সম্মিলিত কোম্পানির মোট বার্ষিক আয় পৌঁছে গেছে প্রায় ৭ হাজার কোটি ডলারে।
তবে বিনোদন বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যারাইটি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মেগা চুক্তির ফলে কোম্পানিটিকে তাৎক্ষণিকভাবেই প্রায় ৮ হাজার কোটি ডলারের বিশাল ঋণের বোঝা ঘাড়ে নিতে হচ্ছে, যা নতুন ব্যবস্থাপনার কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
কী বলছেন কর্তারা?
এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত নিয়ে বলতে গিয়ে স্কাইড্যান্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) ডেভিড এলিসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “আজকের দিনটি কেবল স্কাইড্যান্সের জন্যই নয়, বরং আমাদের পুরো বিনোদন শিল্পের জন্যই একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। শুরু থেকেই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল, এই দুটি কিংবদন্তি স্টুডিওকে একত্র করে আরও শক্তিশালী এক বিশ্বপ্রতিদ্বন্দ্বী গড়ে তোলা, যার প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে দারুণ সব গল্প বলার মতো প্রতিভা, সম্পদ ও পরিধি থাকবে। আজ সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই ডেভিড এলিসন ঘোষণা করেছিলেন যে তাঁর নতুন কোম্পানিটি ‘স্কাইড্যান্স’ নামেই আত্মপ্রকাশ করবে। ২০০৬ সালে তিনি নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রথম প্রোডাকশন কোম্পানির জন্য এই একই নাম ব্যবহার করেছিলেন। গত গ্রীষ্মে ৮ হাজার কোটি ডলারে প্যারামাউন্ট অধিগ্রহণের পর, ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সঙ্গে এই মার্জার সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যম ও স্ট্রিমিং জগতের ক্ষমতার মানচিত্র চিরতরে বদলে গেল।