রিসর্ট রাজনীতি থেকে মধ্যরাতের খেলা! ৪৩ আসনের মালদায় যেভাবে অলৌকিক কাণ্ড ঘটাল বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় ও নাটকীয় মোড়! মাত্র ৪ জন সদস্য নিয়ে মালদা জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের প্রত্যক্ষ সমর্থনে বোর্ড গঠন করে শেষ পর্যন্ত বাজিমাত করল গেরুয়া শিবির। নয়া সমীকরণে জেলা পরিষদের নতুন সভাধিপতি হয়েছেন বিজেপির দীপালি বালা এবং সহকারী সভাধিপতি হলেন তৃণমূলেরই লিপিকা বর্মন ঘোষ।

মাত্র ৪ সদস্য নিয়ে কীভাবে সম্ভব হলো এই অলৌকিক জয়?

মালদা জেলা পরিষদে মোট আসন সংখ্যা ৪৩টি। যেকোনো দল বা জোটের বোর্ড গঠনের ম্যাজিক ফিগার হলো ২২টি আসন। সেখানে বিজেপির নিজস্ব নির্বাচিত সদস্য ছিলেন মাত্র ৪ জন। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষোভ ও ভাঙনের সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেয় বিজেপি।

তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সদস্যরা বিজেপির শিবিরে যোগ দেওয়ায় বর্তমানে বিজেপি জোটের ঝুলিতে চলে এসেছে ২৪ জন সদস্যের সমর্থন। এর ফলেই অত্যন্ত সহজে ম্যাজিক ফিগার পেরিয়ে মালদা জেলা পরিষদের ক্ষমতা দখল করল বিজেপি।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই:

এই নাটকের সূত্রপাত গত জুন মাসে। তৎকালীন জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ ও সহ-সভাধিপতি আবু তাহেল রফিকুল হোসেনের বিরুদ্ধে তৃণমূলেরই ১৯ জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। সেই অনাস্থায় সায় দেয় কংগ্রেসের ৫ জন সদস্যও।

তবে অনাস্থা প্রস্তাবের পর তলবি সভা ডাকা নিয়ে প্রশাসনিক গড়িমসির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট অবধি গড়ায়। আদালতের নির্দেশে প্রশাসন তলবি সভার দিনক্ষণ নির্ধারণ করলে, নাটকীয়ভাবে সভার দু’দিন আগেই পদত্যাগ করেন সভাধিপতি ও সহ-সভাধিপতি। ফলে প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে আটকে যায়।

পুনরায় মামলা হলে আদালত দ্রুত ভোটাভুটির নির্দেশ দেয় এবং ডিভিশনাল কমিশনার ও পুলিশকে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেয়।

কংগ্রেসকে টেক্কা দিয়ে ‘রিসর্ট পলিটিক্স’:

মঙ্গলবার ভোটাভুটিকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে ওঠে রাজনৈতিক তরজা। একদিকে কংগ্রেস বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সদস্যদের নিজেদের দিকে টানার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। কিন্তু কংগ্রেসকে কোনো সুযোগ না দিয়ে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নেতাদের ঝাড়খণ্ডের রিসর্টে নিয়ে যায় বিজেপি নেতৃত্ব।

শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের হাত খালি করে ২৪ জন সদস্যের শক্তিশালী সমর্থন নিয়ে মঙ্গলবার জেলা পরিষদে নিজেদের জয় নিশ্চিত করে বিজেপি। রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় কেবল মালদার রাজনীতিতেই নয়, বরং সমগ্র উত্তরবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল শক্তি পরীক্ষার বার্তা দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *