ট্রেনে মাত্র ৬ ঘণ্টায় বাংলাদেশ, পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ছুটবে মৈত্রী এক্সপ্রেস

ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে বন্ধ থাকা আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। চলতি অক্টোবর মাস থেকেই দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাঝেই সামনে এল এক বিরাট আপডেট। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এবার পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারে জনপ্রিয় ট্রেন ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’। আর যদি এই নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়, তবে বর্তমান রুটটির তুলনায় যাত্রীদের প্রায় তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে এবং টিকিটের ভাড়াও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

প্রস্তাবিত নতুন রুট ও সময় সাশ্রয়

সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৩৮তম বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠকে (আইজিআরএম) মৈত্রী এক্সপ্রেসের সম্ভাব্য নতুন রুট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধিরা ঐতিহাসিক পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চালানোর বিষয়ে প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, যমুনা সেতু-দর্শনা রুটের পরিবর্তে যদি ট্রেনটি পদ্মা সেতু-বেনাপোল রুট দিয়ে চালানো হয়, তবে ঢাকা থেকে কলকাতা পৌঁছাতে সময় প্রায় তিন ঘণ্টা কমে মাত্র ৬ ঘণ্টায় দাঁড়িয়ে যাবে। এতদিন যমুনা সেতু হয়ে চলাচলকারী এই ট্রেনে যেখানে ৯ থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগত, সেখানে নতুন রুটে সময় ও দূরত্ব দুই-ই অনেকটাই হ্রাস পাবে। শুধু তাই নয়, এর ফলে টিকিটের দামও প্রায় এক হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন বন্ধ ছিল পরিষেবা?

নিরাপত্তাজনিত নানা কারণ দেখিয়ে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেসের পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগে এই ট্রেন চালু করা হয়েছিল। ১৯৬৫ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের পর থেকেই এটি পর্যটক, ব্যবসায়ী ও চিকিৎসার জন্য যাতায়াতকারীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। বন্ধ হওয়ার আগে ট্রেনটি টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু-ঈশ্বরদী-দর্শনা রুট দিয়ে ৩৯২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করত।

বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও দুই দেশের মানুষের যাতায়াত কমেনি। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত অগাস্ট মাসেই বাংলাদেশ থেকে ভারতে ভ্রমণ করেছেন ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি। সম্প্রতি বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন যে, পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি খুব শীঘ্রই যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে কূটনৈতিক সূত্রে খবর, আসন্ন দুর্গাপুজোর ছুটির আগেই নতুন রুটে ট্রেন চালুর বিষয়ে ঢাকা ও দিল্লি উভয় পক্ষই চেষ্টা চালালেও, এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যেহেতু পদ্মা সেতু দিয়ে এর আগে কোনো আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলেনি, তাই নতুন রুটে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর আগে সমস্ত কারিগরি ও পরিচালনাগত সক্ষমতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে দেখবে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষ। সবমিলিয়ে, এই নতুন পরিষেবা চালু হলে ভারত-বাংলাদেশের যাতায়াত আরও অনেক বেশি সহজ ও আরামদায়ক হয়ে উঠবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *