আর ১৬ লাখের বেশি নয়! মধ্যবিত্তের বাজেটে আসছে সস্তা হাইব্রিড গাড়ি, নামছে কোন কোন কোম্পানি?

ভারতীয় অটোমোবাইল বাজারে আগামী ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে। বিশেষ করে ছোট হাইব্রিড গাড়ির সংখ্যা এই সময়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মারুতি সুজুকি, হুন্ডাই, টয়োটা এবং রেনোসহ দেশের প্রথমসারির বেশ কয়েকটি অটোমোবাইল সংস্থা এখন অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে হাইব্রিড মডেল বাজারে আনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নতুন গাড়িগুলো মূলত চার মিটারের কম দৈর্ঘ্যের সেগমেন্টে লঞ্চ করা হবে, যা সাধারণ ক্রেতাদের বাজেটের মধ্যে দারুণ বিকল্প নিয়ে আসবে। মারুতির ছোট গাড়িতে এবার হাইব্রিড প্রযুক্তি দেশের অন্যতম প্রধান গাড়ি নির্মাতা মারুতি সুজুকি একটি বিশেষ ও সাশ্রয়ী হাইব্রিড সিস্টেম তৈরি করছে, যা তাদের ছোট গাড়িগুলোতে ব্যবহার করা হবে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনপ্রিয় মডেল যেমন ফ্রঙ্কস, ব্যালেনো, সুইফট এবং ব্রেজার মতো গাড়িগুলোতে এই প্রযুক্তি যুক্ত করা হতে পারে। এই আসন্ন হাইব্রিড মডেলগুলোর মধ্যে প্রথম গাড়িটি আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালেই ভারতীয় বাজারে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই হুন্ডাই, টয়োটা ও রেনোশুধু মারুতিই নয়, হুন্ডাইও বিশেষভাবে ভারতীয় বাজারের কথা মাথায় রেখে একটি ছোট হাইব্রিড গাড়ি তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাজারে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, টয়োটার ভারতীয় শাখা জনপ্রিয় আরবান ক্রুজার টাইসরের একটি হাইব্রিড সংস্করণ নিয়ে কাজ করছে। মারুতি ফ্রঙ্কসের হাইব্রিড সংস্করণ বাজারে আসার পরপরই এটি লঞ্চ হতে পারে।এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই ফরাসি অটো মেজর রেনো। সংস্থাটি একটি সম্পূর্ণ নতুন চার মিটারের কম দৈর্ঘ্যের আরবান এসইউভি নিয়ে কাজ করছে, যা ‘ব্রিজার’ কনসেপ্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই গাড়িতে হাইব্রিড পাওয়ারট্রেন থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি আগামী বছরের শেষের দিকে বাজারে দেখা যেতে পারে।কেন এতদিন হাইব্রিড গাড়ি কিনতে বেশি খরচ হতো?বর্তমানে ভারতে মারুতি সুজুকি, হোন্ডা, কিয়া এবং টয়োটার মতো সংস্থাগুলো হাইব্রিড গাড়ি বিক্রি করলেও সেগুলোর দাম সাধারণত ১৬ লক্ষ টাকার বেশ ওপরে থাকে। এর মূল কারণ হলো, বেশিরভাগ প্রচলিত হাইব্রিড মডেলের দৈর্ঘ্য চার মিটারের বেশি হওয়ায় সেগুলোর ওপর চড়া হারে কর বা ট্যাক্স ধার্য করা হতো।তবে ছোট আকারের হাইব্রিড গাড়ি আসার ফলে এই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যেতে চলেছে। বিগত দিনে জিএসটি কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের পর, ছোট হাইব্রিড গাড়ির ওপর কর কমিয়ে সরাসরি ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। এর ফলে গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর পক্ষে কম খরচে হাইব্রিড মডেল তৈরি করা এবং সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে তা কেনা অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে। হাইব্রিড গাড়ির মূল সুবিধা ও নতুন বিধিমালা হাইব্রিড গাড়ির সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো এতে একটি ইলেকট্রিক মোটর এবং একটি পেট্রল ইঞ্জিন—উভয় ব্যবস্থারই সুফল একসঙ্গে পাওয়া যায়। এর ফলে পুরোপুরি ইলেকট্রিক গাড়ির মতো বারবার চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার বা চার্জিং স্টেশন খোঁজার কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না। একই সঙ্গে এগুলো সাধারণ পেট্রল গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি জ্বালানি সাশ্রয় করতে সক্ষম।এছাড়া, বাজারে হাইব্রিড গাড়ির এই দ্রুত প্রসারের পেছনে অন্যতম প্রধান অনুঘটক হলো কঠোর ক্যাফে-থ্রি (CAFE-3) বিধিমালা। জ্বালানি দক্ষতার এই নতুন নিয়মটির তৃতীয় পর্যায় আগামী ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে চলেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত গাড়িতে অধিক জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি থাকবে, কেবল সেগুলিই কোম্পানিগুলোর নির্ধারিত গড় জ্বালানি দক্ষতার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সফল হবে। ফলে আগামী দিনে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী হাইব্রিড গাড়িই যে বাজারের মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *