জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি! ৩ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন করে আঁটসাঁট করা হলো নিরাপত্তা

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের প্রস্তাবিত বিক্ষোভ ও আন্দোলনকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজধানী দিল্লিতে। সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে পুরো নয়াদিল্লি এলাকা। শুধুমাত্র নয়াদিল্লিতেই ৩ হাজারের বেশি পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যন্তর মন্তর, সংসদ ভবন, সংসদ মার্গ থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের দফতর—গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি চত্বর এখন পুলিশে ছয়লাপ।

নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানী
প্রশাসন সূত্রে খবর, নিরাপত্তার দায়িত্বে মাঠে নামানো হয়েছে পুরুষ পুলিশকর্মীদের ২৭টি কোম্পানি এবং মহিলা পুলিশকর্মীদের ৪টি কোম্পানি। একটি পুলিশ কোম্পানিতে সাধারণত প্রায় ১০০ থেকে ১১৫ জন সদস্য থাকায়, সব মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নামানো হয়েছে দিল্লির রাজপথে।

বিক্ষোভের আশঙ্কায় সংসদ চত্বর, সংসদ স্ট্রিটের গোলচত্বর এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধান গেটগুলিতে নিরাপত্তা অত্যন্ত আঁটসাঁট করা হয়েছে। পাশাপাশি, সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথেও বাড়ানো হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ পাহারা। সম্ভাব্য জমায়েত বা বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণের জন্য বসানো হয়েছে একাধিক ব্যারিকেড এবং রাখা হয়েছে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা।

কেন এই তীব্র আন্দোলন?
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও স্বচ্ছতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজ। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে তারা। এই দাবিতেই গত কয়েক দিন ধরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানী। কংগ্রেস, আপ-সহ বিজেপি বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। এর মাঝেই গত ২ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হলেও দিল্লি পুলিশ তাতে অনুমতি দেয়নি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমায়েত করায় একাধিক মামলাও দায়ের হয়। সংসদ স্ট্রিট থানায় দু’টি এবং কনট প্লেস থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। বিएनएस (BNS)-এর ২২৩ ধারা এবং নয়াদিল্লি জেলায় বিএনএসএস (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা জারি করে জমায়েত, মিছিল ও বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক চাপ
পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন যেমন পথে নেমে শক্তি বাড়িয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক চাপের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে তীব্র আইনি লড়াইও চলছে। ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে মামলা গড়িয়েছে খোদ সুপ্রিম কোর্টেও। আদালতও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আইন না মেনে কোনো কাজ হলে তা কঠোরভাবে বাতিল করা হবে। সব মিলিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনে চরম মাত্রায় পৌঁছেছে রাজধানীর উষ্ণতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *