আজ রাজ্যের দুই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে উপনির্বাচন, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে আঁটসাঁট নিরাপত্তায় চলছে ভোটগ্রহণ

আজ মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন (West Bengal By-Poll)। একদিকে যেমন রাজ্যবাসীর নজর রয়েছে হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রামের (Nandigram) দিকে, তেমনই তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াচ্ছে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর (Rejinagar) কেন্দ্রও। এর আগে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর ছেড়ে যাওয়া আসনে এবং রেজিনগরে হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে যাওয়া আসনে আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া চলবে একটানা সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। দুই কেন্দ্র মিলিয়ে আজ মোট ৬০৫টি বুথে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন সাধারণ মানুষ।
নজিরবিহীন নিরাপত্তার বলয়
অশান্তি এড়াতে এবার সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে ভোট হচ্ছে দুই কেন্দ্রে। মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রেজিনগরে রয়েছে ৩৪ কোম্পানি এবং নন্দীগ্রামে মোতায়েন করা হয়েছে ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নন্দীগ্রামে ৭০০ এবং রেজিনগরে ৮১৯ জন রাজ্য পুলিশও নিয়োজিত রয়েছে।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের বিশেষ তথ্য
মোট বুথ সংখ্যা: ৩২৩টি (যার মধ্যে ৮৫টি বুথকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে)।
ভোটার সংখ্যা: মোট ভোটার ২৬৬,৪১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩৮,৯৫৫ জন, মহিলা ভোটার ১২৭,৪৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন। খোদ মুখ্যমন্ত্রী নন্দনায়কবাড়ের বুথে নিজের ভোটদান করবেন।
প্রধান প্রার্থীরা: এই কেন্দ্রে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন হাসিরানি রথ। তবে এই আসনে তৃণমূলের নিজস্ব কোনও প্রার্থী নেই; এখানে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করছে তৃণমূল। এছাড়া গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন মহম্মদ এতেশামুল হক এবং সিপিআইয়ের প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৯।
রেজিনগর উপনির্বাচনের বিশেষ তথ্য
মোট বুথ সংখ্যা: ৩১৫টি (যার মধ্যে ২৮২টি মূল এবং ৩৩টি সহায়ক কেন্দ্র)।
ভোটার সংখ্যা: মোট ভোটার ২৫৭,৬৫৭ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩৫০১৪ জন, মহিলা ভোটার ১২২৬৩৮ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন।
প্রধান প্রার্থীরা: রেজিনগরে মোট ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আজুপ বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবি আজাদ এই উপনির্বাচনে লড়ছেন। বিজেপির টিকিটে লড়ছেন শাখারভ সরকার, তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল ইসলাম এবং কংগ্রেসের প্রার্থী মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। এছাড়া গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে লড়াইয়ে রয়েছেন শফিউজ্জামান শেখ।
সব মিলিয়ে দুই কেন্দ্রেই কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোটদান নিশ্চিত করতে তৎপর নির্বাচন কমিশন।