শুভেন্দুরগড়ে দ্বিতীয় স্থানে কে? নন্দীগ্রামের ভোট অঙ্ক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, জানুন বিস্তারিত

উপনির্বাচনে সাধারণত শাসকদলেরই জয়জয়কার দেখা যায়—রাজনীতির প্রচলিত এই ট্রেন্ড কি এবারও বজায় থাকবে? আজ হাই-ভোল্টেজ উপনির্বাচন চলছে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর কেন্দ্রে। ভোটের আবহে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর প্রভাব ও বিজেপির শক্ত অবস্থানের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রেজিনগরের সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের গ্রেফতারি। সবমিলিয়ে এই দুই কেন্দ্রের লড়াই ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে।
নন্দীগ্রামে কোন দল থাকবে দ্বিতীয় স্থানে?
নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির শক্ত অবস্থানের বিষয়টি পরিষ্কার হলেও, রাজনৈতিক মহলে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হলো—কোন দল দ্বিতীয় স্থান দখল করবে? ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস মাত্র ৭৯৪টি ভোট (০.৩২ শতাংশ) পেয়েছিল। তবে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে চিত্রটা বদলে গেছে। এবারের উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল চর্চা চলছে, যা কংগ্রেসের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক শুভময় মৈত্রের মতে, নন্দীগ্রামে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা বেশি থাকলেও দ্বিতীয় স্থানের লড়াইয়ে কংগ্রেস ভালো ফল করতে পারে। তাঁর ব্যাখ্যা, অতীতে নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ব্যাংক বেশ শক্তিশালী ছিল। বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে সেই ভোট কংগ্রেসের বাক্সে কতটা পড়বে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
রেজিনগরে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস
অন্যদিকে, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগর কেন্দ্রের সমীকরণ সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে ভোটযুদ্ধ জমিয়ে তুলেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ভোটগ্রহণের সকালেই পুলিশের সঙ্গে বচসা ও ধস্তাধস্তির জেরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনটিতে হুমায়ুন কবীর একাই প্রায় ৫২ শতাংশ ভোট টেনেছিলেন। যেখানে বিজেপি পেয়েছিল প্রায় ২৭ শতাংশ ভোট এবং তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছিল ১৭.৪৩ শতাংশ ভোট। বিশ্লেষকদের মতে, রেজিনগরে মূলত মূল লড়াই হবে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি এবং বিজেপির মধ্যেই। তবে এই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনে শেষ পর্যন্ত মুসলিম ভোট কোন দিকে টার্ন নেয় এবং সামগ্রিক ফলাফল কার পক্ষে যায়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে পুরো রাজনৈতিক মহলের।