‘পুলিশি পাহারাতেই চলছে ভোট লুট!’ উপনির্বাচনের সকালেই নন্দীগ্রামে ধুন্ধুমার, জখম কংগ্রেস প্রার্থী

বাম আমল থেকে শুরু করে বর্তমান শাসকদল—অতীতে ভোট লুটের অভিযোগে সরব হতেন বিরোধীরা। এবার সেই একই অভিযোগ উঠল বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে চলছে হাইভোল্টেজ উপ-নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও ভোট লুটের মারাত্মক অভিযোগ তুললেন বিরোধীরা। একদিকে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান এবং অন্যদিকে রেজিনগরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (আজুপ) প্রধান হুমায়ুন কবীর পুলিশের বিরুদ্ধে এক সুরে তোপ দেগেছেন। এমনকি, কংগ্রেস প্রার্থীকে মারধরেরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বিজেপির পালটা দাবি, স্রেফ হাওয়া গরম করতেই এসব বলছেন বিরোধীরা।
মিলন প্রধানের বিস্ফোরক অভিযোগ
এদিন নন্দীগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের সরাসরি মদতেই বুথে বুথে রিগিং চলছে। ক্ষুব্ধ মিলন বলেন, “গণতন্ত্রে সকলে নিজের ভোট দেবেন এটাই নিয়ম। কিন্তু পুলিশ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে নির্বাচন করাচ্ছে। এখানে প্রহসন করার তো কোনও দরকার ছিল না! যিনি আমায় চোখে গামছা বেঁধে দীঘায় নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই তন্ময় মুখোপাধ্যায় দাঁড়িয়ে থেকে রিগিং করাচ্ছেন।”
শুধু তাই নয়, তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কংগ্রেস প্রার্থীর কথায়, “আমায় বারুণী বুথে লাঠিপেটা করা হয়েছে। এমন ভোট করানোর কোনও দরকার ছিল না। প্রকাশ্যেই ভোট লুট হচ্ছে। আমরা এ বিষয়ে কমিশনে জানিয়েছি। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ভোট লুট করানো হচ্ছে। নন্দীগ্রামে আসলে কংগ্রেসকে ভয় পেয়েছে শাসক ও বিরোধীরা। দেশবাসী এর বিচার করুন।”
ঘটনাক্রম ও পুলিশের ভূমিকা
জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রামের কালীচরণপুর অঞ্চলের গড় চক্রবেড়িয়া এলাকার একটি বুথে মহিলাদের মারধরের অভিযোগ ওঠে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। সেই খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান এবং পুলিশকে বিষয়টি জানান। অভিযোগ, এর পরই পরিস্থিতি সামলানোর নামে মহিলাদের ছত্রভঙ্গ করতে তেড়ে যায় পুলিশ। কংগ্রেস প্রার্থীর দাবি, পুলিশ বাহিনী লাঠিচার্জ করে এবং সেই সংঘাতে তিনি নিজে গুরুতর জখম হন।
কী বলছে বিজেপি?
বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। এবিষয়ে বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানান, “আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মানতেই হয়। ভোটের মাঠে পর্যাপ্ত আধা সামরিক বাহিনীও থাকছে। বাংলায় তো কংগ্রেস লড়াইয়েই নেই! কংগ্রেস খায় না মাথায় দেয়? মূলত হাওয়া গরম করার জন্যই এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।” উপনির্বাচনের দিন সকালেই এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়েছে বহুগুণ।