হাতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই এক ফোঁটাও! ছোটবেলার কাদার খেলা আজ কলেজছাত্রকে এনে দিল বিরাট সাফল্যের মুখ

ছেলের প্রতিভাকে পাখা দেওয়ার ইচ্ছে থাকলেও অভাবের তাড়নায় আর্ট কলেজে পড়ানোর সুযোগ হয়নি পরিবারের। কিন্তু তাতে কী? মনের জোর আর চোখের দেখাকে সম্বল করে কাদামাটি আর তুলির টানে আজ মৃৎশিল্পের দুনিয়ায় এক নতুন নজির গড়লেন নদীয়ার বাদকুল্লার তৃতীয় বর্ষের ছাত্র তৃষাণু রায়। প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ডিগ্রি না থাকলেও তাঁর হাতের জাদুতে তৈরি সুনিপুণ তিন ফুটের মহিষমর্দিনী মূর্তি এখন নজর কাড়ছে সকলের।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকেই কাদামাটি নিয়ে খেলতে ভালোবাসতেন তৃষাণু। খেলার ছলেই কখনো পাখি তো কখনো ছোটখাটো মূর্তি বানিয়ে তাক লাগিয়ে দিতেন তিনি। ছেলের এই প্রতিভাকে স্বীকৃতি দিতে মা ডলি রায়ের প্রবল ইচ্ছে থাকলেও সংসারের আর্থিক অনটনের কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। তবে নিজের অদম্য জেদ আর স্থানীয় পালবাড়ির প্রতিমা তৈরির কাজ নিপুণ চোখে দেখে মৃৎশিল্পের কলাকৌশল আয়ত্ত করে নেন এই তরুণ প্রতিভাবান ছাত্র।পড়াশোনার পাশাপাশি টানা তিন মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে তিনি তৈরি করেছেন এই নজরকাড়া তিন ফুটের মহিষমর্দিনী প্রতিমা। তাঁর হাতের কাজের নিখুঁত ফিনিশিং দেখে রানাঘাটের একটি পরিবার অনলাইনে যোগাযোগ করে এই মূর্তির বরাত দেয়। এর আগেও বিভিন্ন জায়গায় তাঁর তৈরি মূর্তি সমাদৃত হয়েছে। তৃষাণু জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে পেশাগতভাবে অন্য পথ বেছে নিলেও মাটি ও প্রতিমা গড়ার এই টান তিনি কখনোই ছাড়বেন না। অভাবকে পেছে ফেলে এক সাধারণ ঘরের যুবকের এমন অসাধারণ সৃষ্টি এখন অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে বহু মানুষকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *