সুপ্রিম কোর্টের সীলমোহর ছাড়াই ফর্ম-৬ এ পরিবর্তন! তবে কি কমিশনের প্রেস নোট পুরোপুরি ‘মিথ্যাচার’?

এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্তকরণের ‘ফর্ম ৬’ (Form 6) পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের অবস্থান নিয়ে তীব্র সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ফর্ম ৬-এর এই পরিবর্তনে সুপ্রিম কোর্ট কিংবা সরকার কোনো ধরনের অনুমোদন দেয়নি। আদালতের এই বিস্ফোরক পর্যবেক্ষণের পর খোদ নির্বাচন কমিশনের দেওয়া বিবৃতির সত্যতা নিয়ে প্রবল প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়? নিয়ম অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এ কোনো পরিবর্তন আনতে গেলে তা সরকার এবং আদালতের যথাযথ অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। সম্প্রতি এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন ফর্ম ৬-এর সঙ্গে একটি অতিরিক্ত সংযোজনী বা ডিক্লারেশন ফর্ম যুক্ত করা হয়। সেখানে আবেদনকারীকে জানাতে হতো যে, শেষ এসআইআর তালিকায় তাঁর বাবা, মা বা কোনো অভিভাবকের নাম ছিল কি না এবং থাকলে সেই ভোটার কার্ডের নম্বর কী ছিল।

এই পরিবর্তন নিয়ে প্রথমে সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে যে, এর পেছনে সরকারের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি এবং এটি তিন নির্বাচন কমিশনারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তও ছিল না। এরপর গত ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের তরফে একটি প্রেস নোট জারি করে দাবি করা হয়েছিল যে, ফর্ম ৬-এর এই পরিবর্তন সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় এবং সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদনের পরেই করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে নতুন মোড় এদিন মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেন যে, এই পরিবর্তনের কোনো অনুমোদন শীর্ষ আদালত দেয়নি। ফলে ২৬ সেপ্টেম্বর কমিশনের দেওয়া প্রেস নোটের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। সরকার বা সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি ছাড়াই যদি এই বদল আনা হয়ে থাকে, তবে কার নির্দেশিকায় এবং কার স্বার্থে এই কাজ করা হলো—তা নিয়ে এখন জোরদার জল্পনা চলছে। আদালতের এই কড়া বার্তার পর গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়া ও কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *