আর কয়দিন ফুরিয়ে আসত জীবাশ্ম জ্বালানি? সমুদ্রের নোনা জল থেকে ইউরেনিয়াম তুলে তাক লাগিয়ে দিল চিন

জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথে এক বিশাল মাইলফলক ছুঁল চিন। সমুদ্রের নোনা জল থেকে হাইড্রোজেন ও বিশুদ্ধ পানীয় জল উৎপাদনের পাশাপাশি ইউরেনিয়াম এবং ব্রোমিনের মতো অত্যন্ত মূল্যবান সামুদ্রিক সম্পদ পুনরুদ্ধারের এক অভাবনীয় প্রযুক্তি বা ব্যবস্থা তৈরি করেছে বেজিং। বিশেষ করে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির প্রধান জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম সমুদ্রের জল থেকে তুলে আনার এই সাফল্য গোটা বিশ্বে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

ప్రতিষ্ঠিত ‘নেচার এনার্জি’ (Nature Energy) জার্নালে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সেসের ডালিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল ফিজিক্সের এক গবেষক দল এই যুগান্তকারী সিস্টেমটি উদ্ভাবন করেছে। গবেষক দেং দেহুই এবং লিউ ইয়ানটিং-এর নেতৃত্বে গঠিত এই দলটি সমুদ্রের জল থেকে সরাসরি হাইড্রোজেন ও ইউরেনিয়াম উত্তোলনের প্রচলিত ও ব্যয়বহুল কৌশলগুলিকে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দিয়েছে।

সমুদ্রের জল থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদন কেন এত কঠিন? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, নবায়নযোগ্য শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমুদ্রের জল থেকে ‘গ্রিন হাইড্রোজেন’ বা সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনকে ভবিষ্যতে শক্তির অন্যতম বড় উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সমুদ্রের জলের তড়িৎ বিশ্লেষণ (Electrolysis) করা অত্যন্ত জটিল। সমুদ্রের জলে থাকা ক্লোরাইড আয়ন সরাসরি ইলেকট্রোডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সেগুলিকে দ্রুত নষ্ট করে দেয়। পাশাপাশি, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো অজস্র খনিজ উপাদান এই প্রক্রিয়ায় মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করে। চিনের গবেষকরা দীর্ঘ গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সমস্ত প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা সফলভাবে কাটিয়ে উঠেছেন।

নতুন এই প্রযুক্তির সাহায্যে একদিকে যেমন সমুদ্রের জলকে বিশুদ্ধ করে খাবার উপযোগী করা সম্ভব হবে, তেমনই উৎপাদিত হবে বিপুল পরিমাণে হাইড্রোজেন শক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে বিশ্বজুড়ে শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে এবং পারমাণবিক জ্বালানির ঘাটতি মেটাতে চিনের এই নতুন আবিষ্কার এক বিরাট বিপ্লব ঘটাতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *