অন্যায় করেও ক্ষমা চান না? কেন নিজের ভুল ঢাকতে উঠেপড়ে লাগেন কিছু মানুষ? জানুন কারণ

কথাতেই আছে মানুষ মাত্রই ভুল হয়। কিছু ভুল ছোট হয় আবার কিছুটা বড় আকার ধারণ করে। বোঝদার মানুষেরা সাধারণত নিজের ভুল বোঝার পর তা স্বীকার করতে এবং শুধরে নিতে দ্বিধাবোধ করেন না। কিন্তু আমাদের চেনা পরিচিতদের মধ্যেই এমন কিছু মানুষ থাকেন, যারা নিজের ভুল বা অন্যায় সামনে আসার পরেও তা কিছুতেই মানতে চান না। উল্টে ক্ষমা চাওয়ার বদলে তর্ক শুরু করেন কিংবা নিজের দোষ অন্য কারও ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে পিছপা হন না। কিন্তু কেন এমনটা করেন তাঁরা? মনোবিজ্ঞানীরা এর পিছনে একাধিক কারণের কথা উল্লেখ করেছেন।
১. সম্মান হারানোর বা ছোট হওয়ার ভয়
সাইকোলজিস্ট অন্যা শর্মার মতে, কিছু মানুষ মনে করেন যে তারা নিজের ভুল স্বীকার করলে অন্য ব্যক্তি তাদের ছোট করে দেখবে। সমাজের চোখে নিজেদের দুর্বল বা কম বুদ্ধিমান প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়েই তাঁরা সত্য এড়িয়ে যান এবং নিজেদের সঠিক প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা করেন। অথচ বাস্তবে ভুল স্বীকার করা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং আত্মশুদ্ধির প্রথম ধাপ।
২. অহংকার এবং সমালোচনার প্রতি অনীহা
কিছু মানুষের জন্মগত বা অর্জিত স্বভাবই হলো নিজের ভুল কিছুতেই স্বীকার না করা। তাঁরা অন্ধের মতো বিশ্বাস করেন যে তাঁরা যা করছেন বা ভাবছেন, সেটাই শেষ কথা। কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে তাঁরা রেগে যান এবং তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি নিজের দোষ ঢাকার জন্য উল্টে সামনের ব্যক্তির ভুল খুঁজতে শুরু করেন।
৩. অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং শৈশবের প্রভাব
সব সময় যে অহংকারই ভুল স্বীকার না করার একমাত্র কারণ হয় এমন নয়। শৈশবে বা অতীতে কোনো ভুল করার জন্য যাঁদের কঠোর শাস্তি বা সবার সামনে লজ্জিত হতে হয়েছে, তাঁদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। পরবর্তীকালে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরও সেই অবচেতন ভয়ের কারণে তাঁরা নিজেদের দোষ কবুল করতে ভয় পান।
৪. অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ও অজুহাত দেওয়ার প্রবণতা
কিছু মানুষ নিজেদের চিন্তাভাবনার ওপর এতটাই অন্ধভাবে আস্থাশীল থাকেন যে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি বা যুক্তি তাঁরা শুনতে নারাজ। ভুল ধরা পড়লে তাঁরা চটজলদি অজুহাত দেন— যেমন “আমি জানতাম না” বা “আমাকে কেউ বলেনি”। বারবার এই অভ্যাস চলতে থাকলে তা তাঁদের ব্যক্তিত্বের নেতিবাচক অংশে পরিণত হয়।
কীভাবে চিনবেন এই ধরনের মানুষদের?
যাঁরা নিজেদের ভুলের দায়িত্ব নিতে চান না, তাঁদের চিহ্নিত করা খুব একটা কঠিন নয়। তাঁরা কথায় কথায় প্রসঙ্গ পরিবর্তন করবেন, অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাবেন কিংবা সবসময় নিজেদের সঠিক প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকবেন। মনোবিদদের পরামর্শ, এই ধরনের মানুষের সঙ্গে অযথা তর্ক না করে মাঝে মাঝে শান্ত থেকে নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে বলাই শ্রেয়। কারণ, ভুল সবাই করে, কিন্তু তা স্বীকার করার সাহস ও মানসিকতাই মানুষকে প্রকৃত অর্থে একজন ভালো মানুষ করে তোলে।