“আর কোনো লাভ লেটার নয়, এবার হাত-পা চলবে!” হিন্দু জাগরণ মঞ্চের মিছিলে রণক্ষেত্র সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাস

এক সপ্তাহের ব্যবধানে পরপর দু’বার চরম উত্তেজনায় ফুঁসল সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI) চত্বর। গত রবিবার অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের সঙ্গে সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই, ঠিক পরের রবিবার ফের হিন্দু জাগরণের মিছিলকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নিল আইআইটির এই ঐতিহ্যবাহী চত্বর। ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে শুরু হওয়া খণ্ডযুদ্ধ শেষপর্যন্ত হাতাহাতি ও ইট-বৃষ্টিতে গড়ায়, যার জেরে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল রবিবারের মিছিলে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেলে ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’-এর পক্ষ থেকে অজয়নগর এলাকা থেকে একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল, যা এসে শেষ হয় এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসের ঠিক সামনে। সেই মিছিলে উপস্থিত সংগঠনের এক সম্পাদক অত্যন্ত উস্কানিমূলক মন্তব্য করে জানান, “এখন আর কোনো লাভ লেটার চলবে না। এখন হাত চলবে, পা চলবে। ওরা নকশাল, ওদের লাথি খেতেই হবে।”
এর পরেই মিছিলের উগ্র সদস্যরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এবং বন্ধ গেট ঠেলে জোর করে ক্যাম্পাসের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। অভিযোগ ওঠে, সেই সময় ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকা ছাত্র ও শিক্ষকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল এবং ইটবৃষ্টি করা হয়। সংঘর্ষের জেরে বেশ কয়েকজন চোট পান। অন্যদিকে, হিন্দু জাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছে যে তাঁদের বেশ কয়েকজন কর্মীও এই হামলায় আহত হয়েছেন।
গান্ধীজির ছবি টাঙানো ও নতুন করে দেওয়াল লিখন
রবিবারের ওই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসের গেটে থাকা মহাত্মা গান্ধীর ছবি ছিঁড়ে ফেলা এবং পুলিশের উপস্থিতিতে দেওয়াল লিখন মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছিল। তবে ঘটনার পর দমে না থেকে সোমবার সকালেই উদ্দ্যোগী হন ছাত্রছাত্রীরা। ক্যাম্পাসের গেটে সসম্মানে ফের টাঙানো হয় মহাত্মা গান্ধীর ছবি এবং মুছে ফেলা দেওয়ালগুলি নতুন করে লিখে ভরিয়ে তোলেন তাঁরা।
পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, সেজন্য সোমবার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের বাইরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। একইসঙ্গে ছাত্রছাত্রীরা উপাচার্যের (VC) কাছে কড়া বার্তা দিয়ে তাঁদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরপর দু’বার এমন হিংসাত্মক ঘটনা ঘটায় রাজ্যজুড়ে বুদ্ধিজীবী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।