মাত্র ২২ লক্ষ জমিয়ে পান প্রায় ৭২ লক্ষ টাকা! সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার এই ম্যাজিক ফিগার জানলে আজই অ্যাকাউন্ট খুলবেন

কন্যা সন্তানের জন্ম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও উচ্চশিক্ষার কথা মাথায় রেখে সঞ্চয় শুরু করে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত ছোট সঞ্চয় প্রকল্প ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’ (Sukanya Samriddhi Yojana – SSY) এই ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সবচেয়ে বড় ভরসা। সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার পাশাপাশি কর ছাড়ের সুবিধা পেতে এই স্কিমের জুড়ি মেলা ভার। তথ্যসূত্র: এশিয়ানেট নিউজ বাংলা।

৭২ লক্ষ টাকা পাওয়ার সম্পূর্ণ হিসাব
সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার নিয়ম অনুযায়ী, এই স্কিমের মোট মেয়াদ ২১ বছর। সদ্যোজাত কন্যার জন্মের সময় যদি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, তবে তার একুশতম জন্মদিনের সঙ্গেই স্কিমটির মেয়াদ পূর্ণ হয়। এই স্কিমে বছরে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা (অর্থাৎ প্রতি মাসে ১২,৫০০ টাকা) পর্যন্ত বিনিয়োগ করা সম্ভব।

যদি কেউ বার্ষিক ৮.২% সুদের হারের ভিত্তিতে প্রতি বছর ১.৫ লক্ষ টাকা করে টানা ১৫ বছর ধরে মোট ২২.৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেন, তবে ২১ বছর পর ম্যাচুরিটির সময় সেই অঙ্ক বেড়ে প্রায় ৭১.৮ লক্ষ টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে। অর্থাৎ, মোট প্রাপ্ত অর্থের মধ্যে প্রায় ৪৯.৩ লক্ষ টাকাই আসবে শুধুমাত্র সুদ বাবদ। অর্জিত এই সুদ মূল টাকার সঙ্গে চক্রবৃদ্ধি হারে যোগ হতে থাকায় টাকার পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

সুদের হার ও পরিবর্তনশীল হিসেব
তবে মাথায় রাখা প্রয়োজন যে, ৭১.৮ লক্ষ টাকার এই অঙ্কটি একটি আনুমানিক হিসাব মাত্র। অর্থ মন্ত্রক প্রতি ত্রৈমাসিকে সুদের হার পর্যালোচনা করে থাকে। ভবিষ্যতে সুদের হারে পরিবর্তন হলে চূড়ান্ত প্রাপ্ত টাকার পরিমাণেও তার প্রভাব পড়বে। বর্তমান সময়ে ৮.২% সুদের হারটি প্রযোজ্য রয়েছে। এছাড়া এই স্কিমে বিনিয়োগ করা অর্থের ওপর আয়কর আইনের ৮০সি ধারায় বছরে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যায়। পাশাপাশি, অর্জিত সুদ এবং মেয়াদ শেষে হাতে আসা সম্পূর্ণ টাকাটাই সম্পূর্ণ করমুক্ত।

২৫০ টাকা থেকেও শুরু করা যায় বিনিয়োগ
সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা জমা করার বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি চাইলে মাত্র ২৫০ টাকা দিয়েও এই অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে পারেন। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ কম হলে ম্যাচুরিটির সময় প্রাপ্ত টাকার পরিমাণও সেই অনুপাতে কম হবে।

টাকা তোলার নিয়ম ও অন্যান্য সুযোগ
মেয়াদপূর্তির আগেই মেয়ের উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে টাকা তোলার বিশেষ সুযোগ রয়েছে। কন্যার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে তাঁর উচ্চশিক্ষার জন্য জমানো অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত তুলে নেওয়া যায়। এছাড়া ১৮ বছর বয়সের পর মেয়ের বিয়ের উদ্দেশ্যেও অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে সম্পূর্ণ টাকা তুলে নেওয়া সম্ভব। তাই সন্তানের ভবিষ্যতের সুদৃঢ় ভিত্তি গড়তে আজই এই সরকারি স্কিমে বিনিয়োগের পরিকল্পনা শুরু করে দিতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *