‘বাবা আর পারছি না…’ মৃত্যুর আগে চ্যাটে কী লিখেছিলেন তরুণ ইঞ্জিনিয়ার? জানলে বুক কেঁপে উঠবে!

একে তো পারিবারিক অশান্তি ও বিবাহবিচ্ছেদের টানাপড়েন, তার ওপর সন্তানের চিকিৎসার বিপুল খরচ এবং ঋণের পাহাড়—সব মিলিয়ে মানসিক অবসাদে চরম পথ বেছে নিলেন এক তরুণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। উত্তরপ্রদেশের নয়ডার (Noida Suicide Case) একটি বহুতলের ৪৩ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ২৮ বছর বয়সি সম্ভব জৈন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গুরগাঁওয়ের মানেসরের বাসিন্দা সম্ভব গত শুক্রবার একাই নয়ডার সুপারনোভা কমপ্লেক্সে এসে একটি এয়ার বিএনবি (Airbnb) রুম বুক করেছিলেন।

শনিবার সকালে বহুতলের ৪৩ তলার বারান্দার বাইরে তাঁকে ঝুলে থাকতে দেখেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁরা প্রাণপণ চেষ্টা করলেও ওই যুবককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ৪৩ তলা থেকে মাটিতে ছিটকে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং ফরেন্সিক দল এসে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে। সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সন্তানের চিকিৎসা ও বিবাহবিচ্ছেদের টানাপড়েন
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সম্ভবের পরিবার জানিয়েছে, ২০২৪ সালে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং ২০২৫ সালে তাঁদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। শিশুটি সাত মাসের গর্ভাবস্থায় জন্ম নেওয়ায় জন্মের পর থেকেই তাকে দীর্ঘমেহাদী চিকিৎসার মধ্যে রাখতে হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত বাচ্চার চিকিৎসায় প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে, এমনকি ভবিষ্যতেও আরও বহু টাকা লাগার কথা ছিল।

এরই মাঝে স্ত্রীর সঙ্গে সম্ভবের সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং তাঁর স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন। যদিও পরবর্তীতে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। প্রথমে খোরপোশ বাবদ প্রায় ১ কোটি টাকা দাবি করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৫ লক্ষ টাকায় রফাসূত্র বের হয়। এর মধ্যে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা মিটিয়েও দেওয়া হয়েছিল, আর বাকি ছিল ৭.৫০ লক্ষ টাকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ৩ কোটি টাকা খোরপোশের যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা খারিজ করে পুলিশ আধিকারিক সুমনেশ কুমার জানিয়েছেন যে এই দাবির কোনো সত্যতা নেই।

বাবার সঙ্গে শেষ চ্যাট ও উদ্ধার হওয়া ভিডিও
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর আগে গত তিন-চার দিন ধরে বাবার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে নিজের চরম মানসিক অবসাদ ও আত্মহত্যার চিন্তার কথা বারবার প্রকাশ করেছিলেন সম্ভব। তাঁর বাবা তাঁকে দ্রুত বাড়ি ফিরে আসার পরামর্শ দিয়ে সমস্ত পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। তবে ঘটনার আগে চার দিন ধরে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর মোবাইল ফোন থেকে একটি রহস্যজনক ভিডিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সম্ভব তাঁর বাবা-মায়ের একমাত্র পুত্রসন্তান ছিলেন এবং তাঁর একটি ছোট বোন রয়েছে। বর্তমানে তাঁর সন্তান পরিবারের কাছেই নিরাপদে রয়েছে। পারিবারিক অশান্তি, চিকিৎসার খরচ, ঋণ এবং মানসিক চাপ—এই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে ঠিক কোন চরম হতাশার জেরে তিনি এই মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত জারি রেখেছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *