“১৮% থেকে সোজা ৩৮% ডিএ!”-কত টাকা বেশি ঢুকছে সরকারি কর্মীদের অ্যাকাউন্টে?

উৎসবের মরশুম শুরুর আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য এল এক দুর্দান্ত সুখবর। প্রতিশ্রুতি মতো বিজেপি সরকার রাজ্যে ক্ষমতা আসার পরই একধাক্কায় বাড়াল মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance)। চলতি বছরের জুন মাসে নবান্ন ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছিল। আর এবার তার সুফল হাতে পাওয়ার পালা। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পয়লা অক্টোবর থেকে ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পেতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীরা। এতদিন ষষ্ঠ পে কমিশনের আওতায় কর্মীরা মাত্র ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছিলেন। শুধু তাই নয়, পুজোর কথা মাথায় রেখে চলতি মাসের বেতনও মাসের শেষে নয়, বরং আরও আগেই অ্যাকাউন্টে ফেলার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।

একলাফে ২০% বৃদ্ধি, কবে থেকে কার্যকর?

অর্থ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে কর্মীদের ডিএ-র হার ১৮ শতাংশ থেকে একলাফে বাড়িয়ে ৩৮ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, মোট ২০ শতাংশ পয়েন্ট ডিএ বৃদ্ধি পেল। পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের মহার্ঘ ভাতা বেড়ে হয়েছে ১৭১ শতাংশ থেকে সোজা ২২৩ শতাংশ। পাশাপাশি, রোপা ২০০৯ (ROPA 2009) অনুযায়ী যাঁরা এখনও পারিবারিক পেনশন পাচ্ছেন, তাঁরাও ২২৩ শতাংশ হারে মহার্ঘ ত্রাণ বা ডিআর (DR) পাবেন।

১৫ অক্টোবরই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে পুজোর বেতন

দুর্গাপুজোর আবহে সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য জোড়া উপহার ঘোষণা করেছে নবান্ন। নিয়ম অনুযায়ী মাসের শেষ কাজের দিনে বেতন হলেও, উৎসবের কথা মাথায় রেখে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, অক্টোবর মাসের সম্পূর্ণ বেতন বা পারিশ্রমিক ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করে দেওয়া হবে। একই দিনে মিলবে মাসিক পেনশন এবং ফ্যামিলি পেনশনও। এর ফলে পুজোর আগেই কর্মীদের ইন-হ্যান্ড বেতন এক ধাক্কায় অনেকটাই বৃদ্ধি পেতে চলেছে।

২৩ সেপ্টেম্বর অর্থ দফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত ট্রেজারি এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় বিল ও নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সকলের কাছে টাকা পৌঁছে যায়।

কার বেতন কত বাড়ছে? (একনজরে হিসাব)

বেসিক পে বা মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে এই ডিএ বৃদ্ধির ফলে কর্মীদের মাসিক আয়ে একটি বিরাট পরিবর্তন আসবে:

  • ২০,০০০ টাকা মূল বেতন হলে: আগে ১৮% হারে ডিএ মিলত ৩,৬০০ টাকা। নতুন ৩৮% হারে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৭,৬০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে সরাসরি ৪,০০০ টাকা অতিরিক্ত পাবেন।

  • ৩০,০০০ টাকা মূল বেতন হলে: পূর্বে প্রাপ্য ডিএ ছিল ৫,৪০০ টাকা—৩৮% হারে তা বেড়ে হবে ১১,৪০০০ টাকা। ফলে মাসিক অতিরিক্ত আয় বাড়বে ৬,০০০ টাকা।

  • ৪০,০০০ টাকা মূল বেতন হলে: আগে যেখানে ৭,২০০ টাকা ডিএ মিলত, এখন তা বেড়ে দাঁড়াবে ১৫,২০০ টাকা। অর্থাৎ মাসিক বৃদ্ধি ঘটবে পুরো ৮,০০০ টাকা।

(উল্লেখ্য, এই হিসাবটি শুধুমাত্র মূল বেতনের ওপর ডিএ-র পার্থক্যের নিরিখে করা হয়েছে। বাড়িভাড়া ভাতা বা অন্যান্য কর্তনের পর টেক-হোম বেতনের অঙ্কে সামান্য হেরফের হতে পারে।)

কারা পাবেন এই বর্ধিত সুবিধা?

অর্থ দফতরের নির্দেশিকা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, শুধুমাত্র মূল রাজ্য সরকারি কর্মচারীরাই নন, এর পাশাপাশি আরও একাধিক ক্ষেত্রের কর্মীরা এই আগাম বেতন ও বর্ধিত ডিএ-র সুবিধা পাবেন। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে—

  • সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ।

  • রাজ্যের বিভিন্ন বিধিবদ্ধ সংস্থা (Statutory Bodies) ও স্বায়ত্তশাসিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।

  • ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সমস্ত কর্মী ও আধিকারিক।

  • পুরসভা, পুরনিগম ও অন্যান্য স্থানীয় পুরপ্রশাসনের কর্মীরা।

  • সংশোধিত নিয়মের আওতায় থাকা পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগীগণ।

পুজোর ঠিক আগে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারে আনন্দের জোয়ার এসেছে। উৎসবের বাজারে পকেট ভারী হওয়ায় খুশির হাওয়া সব মহলেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *