“বিকল্প জায়গা দিন, না হলে অযথা হেনস্থা বরদাস্ত নয়”-হকার উচ্ছেদ নিয়ে বড় নির্দেশ!

উৎসবের মরশুম মানেই আলোর রোশনাই, নতুন জামাকাপড় আর উৎসবের আনন্দ। দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে কালীপুজো, দীপাবলি, ছটপুজো কিংবা ক্রিসমাস—এই কটি মাস গোটা দেশের অর্থনীতিতে এক বিরাট চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। আনন্দ আর উদযাপনের ভিড়ে অনেক সময় ঢাকা পড়ে যায় বহু মানুষের জীবিকা নির্বাহের লড়াই। বিশেষ করে রাস্তার ধারের হকার, ফেরিওয়ালা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে এই সময়টাই বছরের সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস। ঠিক এই সময়েই তাঁদের অধিকার সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপ করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)।
হকার উচ্ছেদ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কড়া নির্দেশ
সম্প্রতি কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন মেট্রোপলিটন শহরে ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে এবং হকার উচ্ছেদে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। অনেক জায়গায় বিক্রেতাদের জরিমানা করা হয়েছে কিংবা তাঁদের দোকান তুলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কলকাতায় ফুটপাথ ও হকার সমস্যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা কম হয়নি।
গত বছর উৎসবের মরশুমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য প্রিয়ঙ্ক কানুনগোর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই পুরো বিষয়টি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আমলে নেয়। এরপরই সমস্ত রাজ্য এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। চলতি বছরে কমিশনের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, বছরের এই উৎসবের সময় হকার এবং ছোট ব্যবসায়ীদের রুটি-রুজি সম্পূর্ণভাবে এই ব্যবসার ওপর নির্ভর করে। তাই তাঁদের মানবাধিকার এবং জীবিকার অধিকার রক্ষা করা প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
কী নির্দেশ দিল মানবাধিকার কমিশন?
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দুর্গাপুজো, নবরাত্রি, দীপাবলি এবং ছটপুজোর মতো উৎসবের দিনগুলিতে স্থানীয় বিক্রেতাদের যেন অযথা উচ্ছেদ না করা হয় এবং তাঁদের জীবিকা থেকে বঞ্চিত না করা হয়। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী:
-
বিকল্প ব্যবস্থার বন্দোবস্ত: অগ্নিনিরাপত্তা বা জনসুরক্ষার স্বার্থে যদি একান্তই কোনো নির্দিষ্ট স্থান ফাঁকা করার প্রয়োজন হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের জন্য অবশ্যই উপযুক্ত বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে।
-
জুলুম ও হেনস্থা বন্ধ: বিক্রেতাদের পণ্য বাজেয়াপ্ত করা বা তাঁদের ওপর অতিরিক্ত কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। কোনো হকার বা ফেরিওয়ালাকে হেনস্থা করা কিংবা তাঁদের কাছ থেকে তোলাবাজি আদায় করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
-
‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর প্রচার: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘ভোকাল ফর লোকাল’ ভাবনাকে সামনে রেখে স্থানীয় বিক্রেতা, ঐতিহ্যবাহী পেশা এবং স্থানীয়ভাবে তৈরি জিনিসপত্র বিক্রিতে উৎসাহ জোগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিবদের কাছে এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জেলাশাসক, পুরসভা কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসনকে এই নির্দেশ যাতে সঠিকভাবে কার্যকর হয়, সে বিষয়েও কড়া নজর রাখতে বলা হয়েছে। উৎসবের এই দিনগুলোতে সাধারণ মানুষের আনন্দের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফোটাতে কমিশনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশারদরা।