হাসপাতালে নেই স্ট্রেচার! অসুস্থ প্রতিবন্ধী ভাইকে পিঠে চাপিয়ে ওয়ার্ডে নিয়ে গেলেন বোন— হৃদয়বিদারক ভিডিও ভাইরাল!

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফের এক লজ্জাজনক ছবি সামনে এল মধ্যপ্রদেশ থেকে। গুনা জেলা হাসপাতাল থেকে এমন একটি চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক দৃশ্য প্রকাশ্যে এসেছে, যা দেখে যেকোনো সংবেদনশীল মানুষের চোখে জল চলে আসবে। হাসপাতালের ভেতর স্ট্রেচার না পেয়ে এক অসহায় বোনকে তাঁর গুরুতর অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ভাইকে নিজের পিঠে চাপিয়ে হাসপাতালের এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল গুনা জেলা হাসপাতালে?
সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশের রাঘোগড় এলাকার বাসিন্দা কৃষ্ণাবাই তাঁর ভাই জগদীশকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য গুনা জেলা হাসপাতালে এসেছিলেন। গত প্রায় এক বছর ধরে মারাত্মক অসুস্থ রয়েছেন জগদীশ। পাশাপাশি তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না।
কৃষ্ণাবাইয়ের অভিযোগ, হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ভাইকে চিকিৎসকের কাছে বা ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর একটি স্ট্রেচারের অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও তিনি হাসপাতালের কোথাও একটিও স্ট্রেচার পাননি। এমনকি হাসপাতালের কোনো কর্মী বা ওয়ার্ড বয়ও সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। বাধ্য হয়ে, চরম শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির মাঝেই নিজের অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী ভাইকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পিঠে তুলে নেন ওই বোন এবং সেই অবস্থাতেই তাঁকে ওয়ার্ডের ভেতর নিয়ে যান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাফাই ও অদ্ভুত দাবি
ভাইরাল হওয়া এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরেই কাঠগড়ায় উঠেছে গুনা জেলা হাসপাতালের পরিকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা। গুরুতর অসুস্থ ও শারীরিক অক্ষম রোগীদের জন্য যেখানে অবিলম্বে স্ট্রেচার ও ওয়ার্ড বয়ের সাহায্য সুনিশ্চিত করার কথা, সেখানে রোগীর পরিবারের সদস্যদের ওপর এই অমানবিক শারীরিক পরিশ্রম চাপিয়ে দেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে।
যদিও এই বিষয়ে সম্পূর্ণ উলটো সুর শোনা গেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গলায়। ইন-চার্জ সিভিল সার্জন ডা. রাজকুমার ঋষিশ্বর দাবি করেছেন যে, জেলা হাসপাতালে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্ট্রেচার মজুত রয়েছে। এমনকি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লক এবং পুরোনো হাসপাতালের চত্বরেও নিয়মিত স্ট্রেচার রাখা থাকে বলে জানান তিনি। তাঁর আরও দাবি, রোগীদের সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ওয়ার্ড বয় এবং মাল্টিপারপাস কর্মীও মোতায়েন করা রয়েছে। সিভিল সার্জনের মতে, অনেক সময়ই পরিচারকরা নিজেরাই স্বউদ্যোগে রোগীদের কোলে বা পিঠে করে নিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীদের সুবিধার জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় বন্দোবস্তই সেখানে রয়েছে।
অমীমাংসিত প্রশ্ন ও ক্ষোভ
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পরিকাঠামো ও কর্মী বহর নিয়ে যতই জোরালো দাবি করা হোক না কেন, সচেতন মহলের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— যদি পর্যাপ্ত স্ট্রেচার ও কর্মী সত্যিই উপস্থিত থাকত, তবে কৃষ্ণাবাইকে কেন নিজের প্রতিবন্ধী ভাইকে পিঠে বয়ে ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে হলো? একদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, আর অন্যদিকে প্রশাসনের সাফাই— এই দুইয়ের ফারাকের মাঝেই বেআব্রু হয়ে পড়েছে সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিষেবার আসল রূপ। এমন অমানবিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ।