পাক ক্রিকেটারের ঔদ্ধত্য দেখে ফায়ার কামরান আকমল! বৈভবকে কটাক্ষ করার পর যা বললেন প্রাক্তন তারকা, জানলে চমকে যাবেন!

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই সবসময় মাঠের ভেতর ও বাইরে বাড়তি উত্তেজনার পারদ। এশিয়ান গেমসের ফাইনালে পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে ভারত নিজেদের স্বর্ণপদক সফলভাবে ধরে রাখলেও, ম্যাচ শেষে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল পাক ক্রিকেটারদের অশোভন আচরণ। মাত্র ১৫ বছর বয়সি উদীয়মান ভারতীয় ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করার পর পাকিস্তানি অলরাউন্ডার সাইম আয়ুবের করা বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গি নিয়ে এবার দেশেরই প্রাক্তন ক্রিকেটারদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে পাকিস্তান দল।
বৈভবকে আউট করে সেই বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গি
নাগোয়ায় আয়োজিত এশিয়ান গেমসের হাই-ভোল্টেজ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। ম্যাচে এক পর্যায়ে পাকিস্তানের অলরাউন্ডার সাইম আয়ুব ১৫ বছরের তরুণ ভারতীয় ওপেনার বৈভব সূর্যবংশীকে আউট করেন। বৈভব এই ম্যাচে ৯ বলে ১৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
কিন্তু উইকেট পাওয়ার পরেই সাইম আয়ুবকে ‘বেবি ক্র্যাডল’ বা শিশুকে দোলানোর মতো এক অদ্ভুত ও উপহাসমূলক অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। স্পষ্টতই তরুণ ভারতীয় ব্যাটারের উদ্দেশে করা এই কটাক্ষ বা বিদায়ী ইঙ্গিত মুহূর্তের মধ্যে নজর কাড়ে সকলের। তবে মাঠে কোনো বিতর্কে না জড়িয়ে সম্পূর্ণ শান্ত থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়েই মাথা নিচু করে ডাগআউটে ফিরে যান কিশোর বৈভব।
“সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর কাড়তেই এই কুকীর্তি!”— তোপ কামরান আকমলের
পাক ক্রিকেটারের এমন কুরুচিকর আচরণে কেবল ভারতীয় দর্শকরাই নন, ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন খোদ পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটাররাও। খোদ কামরান আকমল স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের মাঠে এমন খারাপ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ দীর্ঘকাল ধরেই চলে আসছে।
একটি জনপ্রিয় ইউটিউব শো ‘Game Plan’-এ আলোচনা করতে গিয়ে কামরান বলেন, “এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। বৈভব ১৩, ১৪ কিংবা ১৫ বছরের হতে পারে, কিন্তু সে তো এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চেই খেলছে। সাইম আয়ুবও তো কোনো শিশু নয়! ওর এই সমস্ত সস্তা অঙ্গভঙ্গি না করে নিজের পারফরম্যান্সের দিকে মন দেওয়া উচিত।” সঞ্চালক যখন প্রশ্ন তোলেন যে এত ভালো ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি এমন ছেলেমানুষি আচরণ কোনোভাবেই মানায় না, তখন কামরান আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “এই বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে চলছে। আমাদের দলের পারফরম্যান্স তো খুব একটা ভালো হচ্ছে না, কিন্তু ক্রিকেটাররা শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় নজর কাড়ার জন্য এবং হাইপ তোলার জন্য এসব করছে। দলের টিম ম্যানেজমেন্টের অবিলম্বে এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।”
ম্যাচের পরেও এড়ানো হলো হাত মেলানোর প্রথা
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ঐতিহ্যগত রাজনৈতিক ও ক্রীড়াগত টানাপোড়েনের ছায়া এদিনের ফাইনালেও স্পষ্ট ছিল। যদিও ম্যাচটি বড় কোনো বড়সড় মারপিট বা অনভিপ্রেত ঘটনা ছাড়াই শেষ হয় এবং শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে গৌরবময় সোনা জিতে নেয় ভারত, তবুও ম্যাচের শেষে বরাবরের মতো দুই দলের ক্রিকেটাররা প্রথাগত হাত মেলানোর রীতি থেকে বিরত থাকেন। মাঠের বাইরে যতই বৈরিতা থাকুক না কেন, পাক ক্রিকেটারদের এই অনৈতিক আচরণ ও সোশ্যাল মিডিয়া স্টান্টবাজি এখন ক্রিকেট বিশ্বে তুমুল সমালোচনার ঝড় তুলেছে।