অবসর নিয়ে বড় ভাবনা ভারতীয়দের! ন্যাশনাল পেনশন স্কিমের প্রতি হু হু করে বাড়ছে আগ্রহ, সামনে এল চমকপ্রদ তথ্য!

কর্মজীবন শেষের পর নিরাপদ ও গোছানো আর্থিক ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ভারতীয়দের মধ্যে অবসরের পরিকল্পনা করার প্রবণতা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। এইচডিএফসি পেনশন ফান্ড ম্যানেজমেন্টের সাম্প্রতিক ‘এনপিএস প্রেফারেন্স ইনডেক্স স্টাডি ২০২৬’ (NPS Preference Index Study 2026)-এর তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল পেনশন স্কিম বা এনপিএস (NPS)-এর প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহের সূচক গত বছরের তুলনায় বেড়ে এবার সরাসরি ৫৭-তে পৌঁছে গেছে। ২০২৩ সালে এই সূচকের মান ছিল ৫৪। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ভারতীয় সঞ্চয়কারীরা এখন এনপিএস সম্পর্কে কেবল সাধারণ বা নিষ্ক্রিয় ধারণা রাখার পর্যায় থেকে বেরিয়ে এসে এটিকে সক্রিয়ভাবে যাচাই-বাছাই করতে শুরু করেছেন।
কেন বাড়ছে এনপিএসের প্রতি ঝোঁক?
গবেষণাটিতে ০ থেকে ১০০-এর স্কেলে এই সূচক বা মান নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ‘কনসিডারেশন’ বা কেনার কথা ভেবে দেখার বিষয়টি, যা ৬ পয়েন্ট বেড়ে বর্তমানে ৫৯-এ পৌঁছেছে। এর পরেই রয়েছে ‘ফ্যামিলিয়ারিটি’ বা পরিচিতি (৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫৮) এবং ‘অ্যাপিল’ বা সাধারণ আকর্ষণ (২ পয়েন্ট বেড়ে ৫৬)।
পেনশন ফান্ডটির এমডি এবং সিইও শ্রীরাম আইয়ার এই প্রসঙ্গে জানান, ভারতে অবসরকালীন পরিকল্পনার সংস্কৃতি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। এটি যেমন ভারতীয়দের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করবে, তেমনই অবসরের পর একটি বড় অঙ্কের তহবিল বা ‘কর্পাস’ গড়ে তুলতে দারুণ সাহায্য করবে। তবে মানুষের আগ্রহ বাড়লেও এই প্রীতিকে প্রকৃত নিবন্ধনে রূপান্তর করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মনে করেন। আঞ্চলিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিচার বা বিবেচনার ক্ষেত্রে উত্তরাঞ্চল সর্বোচ্চ ৬০ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে, অন্যদিকে পূর্বাঞ্চল ‘পরিচিতি’ বা সচেতনতার ক্ষেত্রে দ্রুততম উন্নতি ঘটিয়ে ৫৮ স্কোর অর্জন করেছে। দক্ষিণাঞ্চল ৫৭ এবং পশ্চিমাঞ্চল ৫৪ স্কোর নিয়ে ঠিক তারপরেই রয়েছে।
ভারতীয়দের আর্থিক অগ্রাধিকার ও প্রধান উদ্বেগ
গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয় (৪৫%), জরুরি তহবিল গঠন (৩৯%) এবং সন্তানের শিক্ষার খরচ (৩৫%)-এর পরেই ভোক্তাদের আর্থিক অগ্রাধিকারের তালিকায় চার নম্বরে রয়েছে অবসর পরিকল্পনা।
অবসরের ক্ষেত্রে মানুষের প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলোও এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান খরচ (৪৭%) এবং বয়সজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা (৪৪%)-কে সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া, এখনও প্রায় ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন যে তাঁরা অবসরের পর পরিবার বা সন্তানের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য পাওয়ার আশা রাখেন।
এনপিএসে নিবন্ধনের মূল কারণ ও বাধা
ঐতিহ্যগতভাবে কর সাশ্রয় (৩৮%) এবং ভালো রিটার্ন বা মুনাফা (৩৬%)-এর কথা ভাবা হলেও, বর্তমান সমীক্ষায় দেখা গেছে এনপিএস-এ সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া বিভিন্ন আধুনিক সংযোজন ও সুযোগ-সুবিধাই (৩৯%) এই স্কিমে নাম লেখানোর সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ৬০ বছর বয়সের পর করমুক্ত ক্যাশ উইথড্রল (৫৯%) এবং নিরাপদ সরকারি বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে এর পরিচিতি (৫২%) মানুষকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে।
অন্যদিকে, স্কিমের নিয়মকানুন কিছুটা বদলালেও ‘লক-ইন পিরিয়ড’ বা অর্থ আটকে রাখার সময়সীমা (২৬%) এবং বাধ্যতামূলক অ্যানুইটি বা পেনশন স্কিম কেনা (২৫%)-কে এখনও এই স্কিম গ্রহ ofণের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন অনেকে। তবে মজার বিষয় হলো, গত বছরের প্রধান বাধা অর্থাৎ ‘জ্ঞানের অভাব’ বা সচেতনতার ঘাটতি এবার পঞ্চম স্থানে নেমে এসেছে, যা ধীরে ধীরে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত দেয়।
এনপিএস বাৎসল্য ও বাবা-মায়ের ভাবনা
এবারের সংস্করণে নাবালকদের জন্য চালু হওয়া ‘এনপিএস বাৎসল্য’ (NPS Vatsalya) স্কিম নিয়েও সচেতনতা যাচাই করা হয়েছে। দেখা গেছে, অভিভাবকদের প্রায় ২৮ শতাংশ এই স্কিম সম্পর্কে অবগত এবং তাঁদের মধ্যে ২৭ শতাংশ এর খুঁটিনাটি বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা রাখেন। কর সাশ্রয়ের সুবিধা (৪৪%) এবং দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা (৪১%)-কে অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের এই স্কিমে যুক্ত করার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।