চাল, ডাল থেকে শুরু করে তেল— আগুন দাম ছুঁতে চলেছে কোন কোন খাবারে? চিন্তা বাড়াচ্ছে জয়শঙ্করের মন্তব্য

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার আঁচ এবার সরাসরি পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেল বা বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহের শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। যুদ্ধ পরিস্থিতি, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং সারের সরবরাহে ঘাটতির মতো জটিল কারণগুলির জেরে আগামী মাসগুলিতে বিশ্বজুড়ে এক গভীর খাদ্য সঙ্কট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। মন্ত্রীর এই উদ্বেগজনক মন্তব্যের পরেই সাধারণ মানুষের মধ্যবিত্ত মনে দানা বাঁধতে শুরু করেছে বড়সড় দুশ্চিন্তা। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে রান্নাঘরের কোন কোন জরুরি উপকরণের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠতে পারে?
-
চাল ও শস্যের দাম: ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম চাল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সরবরাহ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার (যেমন খরা বা অতিরিক্ত বৃষ্টি) চাপ সরাসরি অভ্যন্তরীণ বাজারে পড়তে পারে। ফলে ভবিষ্যতে এশিয়াসহ বিভিন্ন বাজারে চালের দাম লাফিয়ে বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
-
গম ও ময়দার বাজারে আগুন: আবহাওয়া অনুকূল না থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে গম উৎপাদনে। যার জেরে শুধু ময়দা বা আটাই নয়, রুটি, বিস্কুট, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস এবং নানাবিধ বেকারি পণ্যের দামও হু হু করে বৃদ্ধি পাবে।
-
ডাল ও ভোজ্য তেল: দেশের নিজস্ব উৎপাদন ছাড়াও ডাল ও ভোজ্য তেলের দাম অনেকাংশেই নির্ভর করে আন্তর্জাতিক বাজারের আমদানি নীতির ওপর। ফসলহানি বা রপ্তানি হ্রাস পেলে এই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পণ্যগুলির দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
-
সারের দাম ও চাষের খরচ: ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ইউরিয়া ও ফসফেটের মতো প্রয়োজনীয় সারের দাম ইতিমধ্যেই আকাশ ছুঁয়েছে। সারের দাম বাড়ার অর্থ কৃষকদের উৎপাদন খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়া, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব গিয়ে পড়বে ফসলের চুরান্ত বাজারের দামের ওপর।
শুধু যুদ্ধ বা ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতই নয়, এর পাশাপাশি শক্তিশালী ‘এল নিনো’-র প্রভাবে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় কৃষি উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যুদ্ধজনিত সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যা এবং আবহাওয়ার কোপ— এই দুইয়ের জাঁতাকলে পড়ে আগামী দিনে খাদ্যমূল্যের ওপর যে পাহাড়প্রমাণ চাপ তৈরি হতে চলেছে, তা মোকাবিলা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।