ককপিটে সহ-পাইলটের ভয়ঙ্কর হামলায় রক্তাক্ত হয়েও বাঁচিয়েছিলেন ১৭৪ প্রাণ, দুবাইয়ের যুবরাজের বিশেষ সম্মান পেলেন সেই বীর ভারতীয় ক্যাপ্টেন!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পর এবার খোদ দুবাইয়ের যুবরাজের মন জয় করে নিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর (Smit Machchhar)। ককপিটের ভেতরে রক্তক্ষয়ী ও রুদ্ধশ্বাস সংঘর্ষের মাঝেও ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমানের ১৭৪ জন যাত্রী ও বিমানকর্মীর প্রাণ বাঁচিয়ে বর্তমানে তিনি গোটা বিশ্বের চোখে এক এবং অদ্বিতীয় ‘রিয়েল লাইফ হিরো’। বর্তমানে আবু ধাবির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এই বীর পাইলট, আর সেখানেই তাঁর সঙ্গে সশরীরে গিয়ে দেখা করলেন দুবাইয়ের রাজপুত্র মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম।

সম্প্রতি দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের ভেতরে ঘটে গিয়েছিল এক অবিশ্বাস্য রোমহর্ষক ঘটনা। বিমান ওড়ার পর ককপিটেই সহ-পাইলটের হিংসাত্মক ও আকস্মিক হামলার মুখে পড়েন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। কুড়ালের আঘাতে গুরুতর জখম হওয়া সত্ত্বেও এবং নিজের জীবনের চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রেখে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখেন এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপদে বিমান অবতরণ করিয়ে ১৭৪ জন মানুষের জীবন রক্ষা করেন।

এই বীরত্বের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দেশ-বিদেশ থেকে প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন স্মিত। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে তাঁর সাহসিকতার জন্য গভীর গর্ব প্রকাশ করেছিলেন। এবার তাঁর এই আত্মত্যাগ ও কর্তব্যের প্রতি নিষ্ঠাকে কুর্নিশ জানিয়ে হাসপাতালে ছুটে গেলেন দুবাইয়ের রাজপুত্র।

হাসপাতালে স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ ছবি শেয়ার করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন দুবাইয়ের রাজপুত্র মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। তিনি লিখেছেন, “ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে দেখা করলাম। যিনি চরম বিপদের মুখেও সর্বোচ্চ সাহসিকতা, দায়িত্ববোধ ও মানুষের জীবনের প্রতি নিখাদ দায়িত্ব দেখিয়েছেন। আমাদের এবং পুরো রাষ্ট্রের নেতৃত্বের তরফে, আমরা তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করছি। তিনি যে আমাদের দলের একটা অংশ, তা নিয়ে আমরা সত্যিই অত্যন্ত গর্বিত।”

রাজপুত্র আরও যোগ করেন যে, ক্যাপ্টেন স্মিত হলেন এমন একটি অদম্য সাহসের প্রতীক, যার পাশে সবসময় সংহতি নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি—যে রাষ্ট্র সবসময় শান্তির পক্ষে এবং মানুষের জীবন রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। ককপিটে জীবনের বাজি রেখে করা এই বীরের লড়াই এখন গোটা মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *