৪৪ বছরের একটানা তপস্যা! ডায়েরির পাতায় ৩ কোটির বেশি ‘দুর্গানাম’ লিখে বিশ্বমঞ্চে চমক শিলিগুড়ির বাসিন্দার।

ভক্তি, নিষ্ঠা আর অদম্য মানসিক জোর থাকলে যে অলৌকিক সাফল্য অর্জন সম্ভব, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শিলিগুড়ির ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাকিমপাড়ার বাসিন্দা শ্যামলময় পাল। শারদোৎসবের প্রাক্কালে দুর্গানামের সাধনায় মেতে এক বিরল ও ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়লেন এই সফল ব্যবসায়ী। ডায়েরির পাতায় কেবল ‘দুর্গানাম’ লিখে তিনি জিতে নিয়েছেন জোড়া আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দীর্ঘ সাধনার সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৮২ সালের উল্টোরথে। ছোটবেলায় বাবা প্রয়াত জিতেন্দ্রনাথ পাল, মা পারুলবালা পাল এবং ঠাকুরদা জ্যোতির্ময় পালের কাছ থেকে দুর্গানাম লেখার উপদেশ পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে মায়ের দৈবাদেশ পেয়ে ডায়েরিতে নিয়মিত ‘জয় মা দুর্গা’ লেখা শুরু করেন শ্যামলময়। শুরুর দিকে দিনে ১০০০ বা ১০০৮ বার লিখলেও পরে তা বাড়িয়ে প্রতিদিন ২০০8 বার করেন তিনি। প্রতিদিন প্রায় ১০০ মিনিট সময় ব্যয় করে চলে এই ভক্তিপূর্ণ তপস্যা। কোনও কারণে এক দিন বাদ পড়লে পরের দিন তা দ্বিগুণ লিখে পুষিয়ে নেওয়া ছিল তাঁর নিয়ম।
প্রথম কয়েক মাসের লেখা ডায়েরি গঙ্গায় বিসর্জন দিলেও, ১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সমস্ত ডায়েরি সযত্নে সংগ্রহ করে আসছেন তিনি। দীর্ঘ ৪৪ বছরের এই নিরবচ্ছিন্ন যাত্রায় ১৩৫টি বিশাল ডায়েরি সম্পূর্ণ করে বর্তমানে ১৩৬ নম্বর ডায়েরির পাতায় ৩ কোটি ৩৩ লক্ষেরও বেশি বার ‘জয় মা দুর্গা’ লিখে ফেলেছেন শ্যামলময়বাবু।
তাঁর এই অভাবনীয় সাধনাকে স্বীকৃতি জানিয়ে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস’ এবং ‘এশিয়া বুক অফ রেকর্ডস’-এর পক্ষ থেকে জোড়া সম্মান প্রদান করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই তাঁর নাম ‘ওয়ার্ল্ড বুক অফ রেকর্ডস’-এ মনোনীত হয়েছে এবং আগামী দিনে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস (Guinness World Records)-এর খাতাতেও নাম তোলার জোরালো দাবিদার তিনি। পুজোর ঠিক আগে শিলিগুড়ির এই সন্তানের বিশ্বজয়ী সাফল্যে কেবল পাল পরিবারই নয়, গর্বিত গোটা রাজ্য।