‘মমতার জেল হবে না কেন?’ প্রশ্ন তুলে প্রাক্তন CM-এর গ্রেফতারি চাইলেন অগ্নিমিত্রা

রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আরও একবার নিশানা করে সরাসরি গ্রেপ্তারের দাবি তুললেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি সহ অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনিয়মের দায় থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কিছুতেই রেহাই পেতে পারেন না বলেই স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রার এই আক্রমণাত্মক সুর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
মমতাকে জেলে পাঠানোর পক্ষে জোরালো সওয়াল
শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সে সময়ে যে সমস্ত দায়িত্ব তাঁর উপর ছিল, সেগুলি তিনি এখনও এড়িয়ে যেতে পারেন না। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর আমলে যে দুর্নীতি হয়েছিল, তার দায় তাঁর উপরও বর্তায়। কোনওমতেই তিনি সেই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না।”
এরপর আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি সরাসরি আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তারের দাবি তুলে বলেন, “আমি সে সময়েও বলেছিলাম, ওঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে। হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। যদি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের জেল হতে পারে, লালুপ্রসাদ যাদব কিংবা জয়ললিতার যদি জেল হতে পারে, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেল হবে না কেন? আমি, আপনি কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—কেউই দেশের আইনকানুনের ঊর্ধ্বে নন। তাহলে ওঁর জেল হবে না কেন? জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক ওঁকে। আদালত, পুলিশ এবং সিবিআই (CBI) দেখুক এই মামলাটি।”
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মমতার আন্দোলন প্রসঙ্গে জবাব
এর আগে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরব হওয়া এবং আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “গণতন্ত্রে প্রত্যেকেরই সভা করার অধিকার রয়েছে, প্রতিবাদ করার অধিকারও রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও সেই অধিকার রয়েছে।”
তবে একই সঙ্গে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলকে রাজ্য চালানোর সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু সেই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। দুর্নীতি ও ঔদ্ধত্যের মতো বিষয়গুলি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ফলে শুধু সভা বা প্রতিবাদ করলেই মানুষের সিদ্ধান্ত বদলানো সম্ভব নয়। বাংলার মানুষ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেন, পরিস্থিতি দেখেন এবং বিচার করেন। কিন্তু একবার কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেলে তাঁরা আর সহজে সেখান থেকে সরে আসেন না।”