জেরা শেষে বাড়ি ফিরলেন ডিনো মোরিয়া নাকি সোজা জেল? মিঠি নদী কেলেঙ্কারিতে অভিনেতাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর মোড়!

মিঠি নদী কেলেঙ্কারি মামলায় বলিউড অভিনেতা ডিনো মোরিয়ার গ্রেফতারি নিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে বিনোদন জগতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে, মুম্বই পুলিশ অভিনেতাকে তাঁর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে। তবে সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, এই খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়ো।

গত শুক্রবার মুম্বই পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (EOW)-এর অফিসে তলব করা হয়েছিল ডিনো মোরিয়াকে। সেখানে টানা প্রায় ছ’ঘণ্টা ধরে তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। দীর্ঘ জেরা শেষে সন্ধের দিকে তিনি হাসিমুখে সেখান থেকে বেরিয়ে যান। অভিনেতার পরিবার ও পুলিশ সূত্রে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, তাঁকে আটক বা গ্রেফতার—কোনোটিই করা হয়নি।

মুম্বই পুলিশের EOW-এর যুগ্ম পুলিশ কমিশনার রাজেশ প্রধান এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিনেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আইন মেনে ও তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন পড়লে তাঁকে আগামী দিনেও তলব করা হতে পারে।”

কী এই মিঠি নদী কেলেঙ্কারি?
মুম্বইয়ের মিঠি নদী পরিষ্কার এবং নদী থেকে পলি তোলার জন্য বৃহন্মুম্বাই পৌরসভা (BMC) একটি বিশাল প্রকল্পের দায়িত্ব নিয়েছিল। ওই প্রকল্পে পলি ও কাদা পরিষ্কারের কাজে বিশেষ মেশিন ব্যবহারের চুক্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও বেসরকারি সংস্থা যোগসাজস করে ভুয়ো ও বাড়তি বিল তৈরি করে পৌরসভার আনুমানিক ৬৫ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি করেছে। এই দুর্নীতি মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত মে মাসে এই কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত তথা ‘ইউবিও রাইডজ প্রাইভেট লিমিটেড’-এর কেতন কদমকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

কেন জড়াল ডিনো মোরিয়ার নাম?
তদন্ত এগোতেই পুলিশ জানতে পারে যে, এই মামলার মূল অভিযুক্ত কেতন কদম এবং তার সহযোগীদের সঙ্গে অভিনেতা ডিনো মোরিয়া ও তাঁর ভাই সান্টিনো রকো মোরিয়ার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। শুধু তাই নয়, পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিনো মোরিয়া, তাঁর ভাই সান্টিনো এবং ধৃত কেতন কদমের স্ত্রী পুনীতা কদম—এই তিনজনই একটি নির্দিষ্ট সংস্থায় পরিচালক পদে যুক্ত ছিলেন।

তাছাড়া, কেতন কদমের সংস্থা ‘ওডার ইন্ডিয়া এলএলপি’ কীভাবে পৌরসভার এত বড় চুক্তি পেল এবং সেই সুবাদে ডিনো বা তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব মিটলেও, এই হাই-প্রোফাইল দুর্নীতির মামলায় অভিনেতার নাম জড়ানোয় ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *