‘আমি না থাকলে সৌদি আরব ও ইজরায়েল কবেই মুছে যেত!’ বিস্ফোরক দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের কৃতিত্ব জাহির করতে গিয়ে ফের এক ঝাঁঝালো ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সাফ দাবি, তিনি মার্কিন মসনদে না থাকলে সৌদি আরব এবং ইজরায়েল—উভয় দেশই বহু আগেই ‘পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে যেত’। একইসঙ্গে সৌদি আরবের যুবরাজ তথা ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমন বা এমবিএস (MBS)-এর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত ভালো রয়েছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

TIME ম্যাগাজিনের সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক ট্রাম্প
সম্প্রতি নামী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘TIME’-কে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সাক্ষাৎকারে রিয়াদের সঙ্গে তাঁর বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক অতীতে এমন খবর প্রকাশ্যে এসেছিল যে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য ট্রাম্পের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ। কিন্তু ট্রাম্প নাকি সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

সেই প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি সৌদি আরবের জন্য অনেক কিছু করেছি। আমিই সৌদি আরবকে রক্ষা করি। আমি যদি প্রেসিডেন্ট না থাকতাম, তাহলে সৌদি আরব এখন আর থাকত না। শুধু তাই নয়, ইজরায়েলও থাকত না। পৃথিবীর মানচিত্র থেকে চিরতরে মুছে যেত ওরা।”

সৌদি যুবরাজের সঙ্গে সম্পর্কের রসায়ন
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে তাঁর বর্তমান সম্পর্ক কেমন, তা স্পষ্ট করে ট্রাম্প দাবি করেন যে এমবিএস-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক যথেষ্ট মধুর। ক্রাউন প্রিন্সকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন এবং তাঁদের সম্পর্ক ‘খুব ভাল’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্পের স্পষ্ট কথা, মার্কিন সুরক্ষা না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক প্রভাবশালী দেশই তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারত না।

ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি অভিযানের জল্পনা
এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে ইয়েমেনে নতুন করে এক বড়সড় সামরিক অভিযান চালানোর জোরালো প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথ সুরক্ষিত করতে উপকূলীয় এলাকায় এই অভিযানের পরিকল্পনা একাধিক স্তরে সাজানো হচ্ছে। বিশেষ করে বাব-এল-মান্দেব প্রণালীর কাছ থেকে হুথিদের হটিয়ে দেওয়াই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় গোটা বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য অভিযানে সৌদি বিমানবাহিনীর সমর্থন নিয়ে ইয়েমেনি বাহিনীকে ব্যবহার করা হতে পারে। সৌদি এই সামরিক পদক্ষেপে আমেরিকা গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করলেও, সরাসরি মার্কিন সেনা এই যুদ্ধে অংশ নেবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে, একদিকে ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর মন্তব্য এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন রণকৌশল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফের উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *