মাত্র ৪৫ কেজির শরীর, অথচ নৈতিকতার ভারে কেঁপেছিল গোটা বিশ্ব! আজীবন কেন সবার থেকে আলাদা ছিলেন মহাত্মা গান্ধী?

আজ ২ অক্টোবর, মহাত্মা গান্ধী ও লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর জন্মবার্ষিকী। পরাধীনতার অন্ধকার থেকে দেশকে আলোর পথ দেখাতে যখন গোটা দেশ খণ্ডিত বিক্ষোভে লিপ্ত ছিল, ঠিক তখনই ইতিহাসের পাতা থেকে আবির্ভূত হয়েছিলেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। লাঠি, ধুতি আর চশমাকে প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত করে যিনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। মৃত্যুর ৭৫ বছর পরেও বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ কেন তাঁদের সমস্যার সমাধান মহাত্মার মাঝেই খুঁজে পান, তা এক গভীর ইতিহাস।
নৈতিক বল ও সাধারণ জীবনযাপনের অনন্য প্রতীক
যখন গান্ধীকে হত্যা করা হয়, তখন তাঁর ওজন ছিল মাত্র ৪৫ কিলোগ্রাম। অথচ তাঁর নৈতিক ঔজ্জ্বল্য এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তা গোটা পৃথিবীকে নাড়া দিয়েছিল। মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ জ্ঞান করে তিনি প্রতিদিন প্রায় ১৮ কিলোমিটার হাঁটতেন। ১৯১৩ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত প্রায় ৭৯,০০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছিলেন তিনি, যা পৃথিবীকে দুবার প্রদক্ষিণ করার সমান।
তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় ছিল সততা ও আদর্শের মূর্ত প্রতীক। সেবাগ্রামে কস্তুরবা যখন তাঁর জন্মদিনে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়েছিলেন, তখন সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা মাথায় রেখে তিনি একে বড় অপচয় বলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকাকালীন চরম ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিজে প্রসবের সময় দাইয়ের ভূমিকা পালন করে জন্ম দিয়েছিলেন নিজের চতুর্থ সন্তানের।
ইতিহাসের পাতায় গান্ধীর কিছু অজানা ও আকর্ষণীয় দিক
-
ক্রিকেটের অন্ধ ভক্ত: অনেকেই হয়তো জানেন না, ছোটবেলায় পড়াশোনা কিংবা অন্য বিষয়ে নয়, ক্রিকেট খেলায় দারুণ আগ্রহ ছিল গান্ধীর। দীর্ঘদেহী না হলেও ক্রিকেটের প্রতি তাঁর এই অদম্য টান অনেকের জন্যই ছিল অবাক করার মতো।
-
বিদ্রূপের মোক্ষম জবাব: লন্ডনে গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে ব্রিটিশ রাজার পোশাক নিয়ে কটাক্ষের মুখে পড়ে তিনি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে জবাব দিয়েছিলেন, “আমার কাপড় পরার কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ আপনার রাজার গায়ে যে কাপড় রয়েছে তা তো আমাদেরই হিস্সের!”
-
কঠোর মনোভাব: বর্ণবৈষম্য বা অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন। নিজের স্ত্রী কস্তুরবার সঙ্গেও এই বিষয়ে কোনো আপস করতে রাজি হননি তিনি, যা তাঁর অটল নীতিবোধেরই পরিচায়ক।
আজকের এই আধুনিক যুগেও অবিচার, মিথ্যা ও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গান্ধীর আদর্শ বিশ্ববাসীর কাছে অনুপ্রেরণার এক চিরন্তন স্তম্ভ হয়ে রয়েছে।