জরায়ুর ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে হু হু করে! প্রাথমিক লক্ষণগুলো অবহেলা করলেই মারাত্মক বিপদ

মহিলাদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বর্তমানে অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার, যা মূলত জরায়ুর ক্যানসার নামেই বেশি পরিচিত। জরায়ুর ভেতরের স্তর বা এন্ডোমেট্রিয়ামে এই ক্যানসার বাসা বাঁধে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, অন্যান্য অনেক ক্যানসারের তুলনায় এটি প্রাথমিক পর্যায়ে খুব দ্রুত ধরা পড়ে যায় এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জরায়ু বাদ দিয়ে এটি পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব।
পরিসংখ্যান ও বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব গ্লোবোক্যান ২০২৪-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এই ক্যানসারে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা চার লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে এবং মৃতের সংখ্যাও লক্ষাধিক। ভারতের চিত্রটিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক। দেশে প্রতি বছর হাজার হাজার নারী এই মারণ রোগের সঙ্গে লড়াই করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলেই এই ক্যানসারের ঝুঁকি দ্রুত হারে বাড়ছে।
প্রধান লক্ষণ ও সতর্কবার্তা এই রোগের সবচেয়ে বড় এবং প্রাথমিক লক্ষণ হলো জরায়ু থেকে অস্বাভাবিক রক্তপাত। বিশেষ করে মেনোপজ বা ঋতুবন্ধের পর রক্তপাত হলে কিংবা তার আগে অনিয়মিত বা অতিরিক্ত মাত্রায় রক্তপাত হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া যোনিপথে জল বা রক্ত মেশানো স্রাব, তলপেটে ব্যথা, হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া, পেট ফুলে থাকা এবং সারাক্ষণ ক্লান্তি বোধ করার মতো লক্ষণগুলো দেখা দিলেই সতর্ক হতে হবে।
কাদের ঝুঁকি বেশি ও করণীয়? অতিরিক্ত ওজন, খুব অল্প বয়সে ঋতুস্রাব শুরু হওয়া, দেরিতে মেনোপজ, পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) এবং জিনগত কারণ (যেমন ‘লিঞ্চ সিনড্রোম’) এই ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই শরীরে সামান্যতম অস্বাভাবিকতা দেখা দিলেই দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এবং বায়োপসির মাধ্যমে রোগ নিশ্চিত করে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করাই সুস্থ থাকার একমাত্র চাবিকাঠি।