সৌরভ ভরদ্বাজকে চ্যাংদোলা করে তুলল পুলিশ, আটক ১৫০! জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি!

গান্ধী জয়ন্তীর দিনে নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হলো চরম উত্তেজনা। শুক্রবার সকালে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আম আদমি পার্টির (AAP) প্রবীণ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজকে চ্যাংদোলা করে প্রিজন ভ্যানে তোলে দিল্লি পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

সকাল থেকেই খণ্ডযুদ্ধ ও গ্রেফতারে উত্তপ্ত যন্তর মন্তর

এদিন সকাল থেকেই এসএফআই (SFI), আইসা (AISA) এবং ডিওয়াইএফআই (DYFI)-এর মতো বিভিন্ন ছাত্র ও নাগরিক সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা যন্তর মন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় জমায়েত হন। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো চত্বর।

সকাল আটটা নাগাদ বিক্ষোভে যোগ দিতে আসেন দিল্লির আপ সভাপতি তথা বিধায়ক সৌরভ ভরদ্বাজ। তাঁর সেখানে পৌঁছানোর পরেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলায়। পুলিশ তাঁকে জোর করে চ্যাংদোলা করে তুলে প্রিজন ভ্যানে তোলে। এর পরেই আপ কর্মী-সমর্থকরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে তীব্র ধস্তাধস্তি ও কথা কাটাকাটি শুরু হয়। আপ বিধায়ক সঞ্জীব ঝা এবং বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা আপ নেত্রী তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতশী মার্লেনাকেও আটকে দেয় পুলিশ।

আটক সৃজন ভট্টাচার্য ও বিরোধী নেতারা

বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছান সিপিএম নেতা তথা এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। তাঁকেও আটক করে পুলিশ। থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় একটি ভিডিও বার্তায় সৃজন হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গোটা দেশে তুলকালাম পড়ে গিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতেই হবে। না হলে এই আন্দোলন আরও ভয়ংকর আকার ধারণ করবে।”

এছাড়াও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA), রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা (RJD), আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির ডাকে এই বিক্ষোভে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন। এনসিপি-এসপি (NCP-SP) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেরও এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও বন্ধ মেট্রো স্টেশন

বিক্ষোভ সামাল দিতে যন্তর মন্তর চত্বরে প্রায় ৮ থেকে ৯টি নিরাপত্তা জোন তৈরি করেছিল দিল্লি পুলিশ। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে রাখা হয় সিনিয়র আইপিএস (IPS) আধিকারিকদের। যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার সমস্ত রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলার পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF)। সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতে সকাল সাতটা থেকেই দিল্লির ১১টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সবমিলিয়ে, গান্ধী জয়ন্তীর আবহে জাতীয় রাজধানীতে অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংঘাতের ছবি সামনে এল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *