“হনুমান চালিশা জপ করছিলাম”-প্রধানমন্ত্রী মোদিকে রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিলেন স্মিত

মাঝআকাশে ককপিটের ভেতরে কো-পাইলটের বর্বরোচিত ছুরিকাঘাত। শরীর থেকে ফিনকি দিয়ে বেরোচ্ছে রক্ত, আর হু হু করে নীচের দিকে নামছে বিমান! এমন ভয়াবহ মৃত্যুর মুখ থেকেও চরম সাহসিকতা আর উপস্থিত বুদ্ধির জোরে ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে এখন গোটা দেশের চোখের মণি ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর। শুক্রবার দুবাইয়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই ‘সুপারহিরো’-কে সরাসরি ভিডিও কল করে কুর্নিশ জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় নয় মিনিটের এই ভিডিও কথোপকথনে উঠে আসে সেই আঁতকে ওঠার মতো রাতের বিবরণ। মোদীর প্রশ্নের জবাবে ৩৯ বছর বয়সি স্মিত জানান, জীবন-মৃত্যুর সেই সন্ধিক্ষণে নিজেকে স্থির রাখতে তিনি কী করেছিলেন। ১৭ বছরের অভিজ্ঞ এই পাইলট বলেন, “বিপদের মুখে পড়লে আমি সর্বদাই মনে মনে হনুমান চালিশা জপ করি। সেদিনও সেটাই করছিলাম।”
আহত অবস্থাতেই ককপিটের দরজা খোলার সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। স্মিতের কথায়, “একের পর এক কোপে আমি বারবার পড়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আমি বুঝতে পেরেছিলাম, ওই মুহূর্তে উঠে দাঁড়াতে না পারলে আমার মৃত্যু অবধারিত। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে শেষ ধাক্কাটা দিয়ে ককপিটের দরজা খুলি, যার পরই ক্রু মেম্বাররা সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন।”
হাসপাতালের বিছানা থেকে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি ফোন পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি স্মিত। চোখে জল নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, “স্যার, আপনি আমার কাছে সবচেয়ে বড় পথপ্রদর্শক। আপনি এভাবে ফোন করে উৎসাহিত করায় আমি আজ অত্যন্ত গর্বিত।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “ভারতবর্ষের মানুষ অন্যের জীবন বাঁচাতে নিজেদের প্রাণ বাজি রাখতে পিছপা হয় না, আপনি সেটাই প্রমাণ করেছেন। গোটা দেশ আপনার দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করছে।” পাশাপাশি, স্মিতের মা গীতা মচ্ছরের সঙ্গে কথা বলে তাঁর দেওয়া সঠিক সংস্কার ও আদর্শেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। শুরুতে সৌদি আরবের তাবুক এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে স্থানান্তরিত করা হয় জখম এই বীর ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে।