ভীমরুলের ভয়াবহ তাণ্ডব! শত কামড়ে ৮৫ বছরের বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যুতে কাঁপছে বর্ধমান

খাস বর্ধমান শহরে ভীমরুলের ভয়াবহ হানায় প্রাণ হারালেন এক ৮৫ বছরের বৃদ্ধা। মৃত মহিলার নাম সচীরানি শর্মা। তিনি বর্ধমান শহরের বড়নীলপুরের শালবাগানের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, ভীমরুলের শত শত হুলের জখম ও তার জেরে তৈরি হওয়া শারীরিক অসুস্থতার ফলেই মৃত্যু হয়েছে ওই বৃদ্ধার। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আসলে ঠিক কী ঘটেছিল?
স্থানীয় সূত্রে ও পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত বুধবার দুপুর ১টা নাগাদ বাড়ির পাশের একটি বহুতলের নীচের জঙ্গলে চলে গিয়েছিলেন সচীরানি দেবী। অসাবধানতাবশত সেখানে থাকা একটি ভীমরুলের চাকের গায়ে তাঁর হাত লেগে যায়। আর তাতেই মুহূর্তের মধ্যে ঘটে বিপত্তি। চাক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষিপ্ত ভীমরুল বেরিয়ে এসে তাঁর ওপর চড়াও হয়। স্থানীয়দের প্রত্যক্ষ বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় শতাধিক ভীমরুল একসঙ্গে আক্রমণ করে তাঁকে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়।
বৃদ্ধার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা তাঁকে বাঁচাতে ছুটে গেলেও তাঁদেরকেও রেয়াত করেনি ভীমরুলের সেই দল। ওই বৃদ্ধাকে রক্ষা করতে গিয়ে আক্রান্ত হন স্থানীয় এক পশু চিকিৎসক পার্থ সরকারও। ভীমরুলের কামড়ে তিনিও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে তাঁকে বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে জাতীয় সড়কের বামচাঁদাইপুর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাতে হয়।
হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরা ও আকস্মিক পরিণতি
এদিকে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম সচীরানি শর্মাকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘক্ষণ তাঁর চিকিৎসা চলে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতের দিকে শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ছেড়ে দেয় এবং পরিবারের লোকজনের সঙ্গে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।
তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বাড়ি ফেরার পরেই ফের মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই বৃদ্ধা। পরিবারের লোকজন তাঁকে দ্রুত আবারও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর সময়টুকুও পাওয়া যায়নি, বাড়িতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সচীরানি দেবী।
মৃতার নাতি বিশ্বজিৎ শর্মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তাঁরা রাতে ঠাকুমার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়ই চোখের সামনে সব শেষ হয়ে যায়। ভীমরুলের হুলের বিষ ও তার জেরে সৃষ্ট শারীরিক ধকল সইতে না পেরেই তাঁর ঠাকুমার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই বড়নীলপুর শালবাগান এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।