সমুদ্র স্নানে কড়া নিষেধাজ্ঞা, মন্দারমণি বিচের ২ কিমি এলাকা ‘রেড জোন’ ঘোষণা প্রশাসনের!

সমুদ্র সৈকতে একের পর এক পর্যটকের মৃত্যু এবং মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জেরে শেষ পর্যন্ত চরম পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মন্দারমণি সমুদ্র সৈকতের একটি নির্দিষ্ট অংশে স্নান করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। দুর্গাপুজোর ঠিক আগে প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপে শোরগোল পড়ে গেছে পর্যমহলে।

কোন এলাকা ‘রেড জোন’?

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে মন্দারমণির সমুদ্রে তলিয়ে গিয়ে বেশ কয়েকজন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে মোহনা এলাকায় ঘনঘন বিপদের সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি এড়াতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ ও মন্দারমণি উপকূল থানার যৌথ উদ্যোগে ৩ নম্বর ঘাট সংলগ্ন প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই পুরো এলাকাটি বাঁশের খুঁটি পুঁতে, তাতে দড়ি ও লাল ফিতে টাঙিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে ভুলবশতও গভীর জলে নেমে বিপদে না পড়েন, তার জন্যই এই ব্যারিকেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মানতে হবে প্রশাসনের একগুচ্ছ কড়া নিয়ম

শুধু ‘রেড জোন’ তৈরি করেই ক্ষান্ত থাকেনি প্রশাসন, পর্যটকদের সুরক্ষায় একাধিক কঠোর নিয়মও লাগু করা হয়েছে:

  • স্নানে নিষেধাজ্ঞা: হাঁটু জলের বেশি সমুদ্রে নামা যাবে না। মোহনা অঞ্চলে সমুদ্র স্নান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

  • মদ্যপানে কড়া নজর: মদ্যপান করে সমুদ্র সৈকতে ঘোরাঘুরি করা যাবে না।

  • পরিচ্ছন্নতা রক্ষা: সমুদ্রের ধারে বা সৈকতে নোংরা আবর্জনা ফেলা যাবে না।

  • সময়ের কড়াকড়ি: রাত ১০টার মধ্যে সমস্ত হোটেলের মূল গেট বন্ধ করতে হবে।

পুজো মরশুমের আগে বাড়তি প্রস্তুতি

সামনেই দুর্গাপুজো। এই সময়ে মন্দারমণিতে পর্যটকদের উপচে ভিড় লক্ষ্য করা যায়। তাই পুজোয় কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত তৎপরতা নিয়েছে প্রশাসন। দিঘা ও মন্দারমণি সৈকতে পুলিশ এবং সিভিক ভলান্টিয়ারদের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি, উদ্ধারকারী দল ও নুলিয়াদের তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টহলের জন্য নতুন স্পিডবোট মোতায়েন করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *