SIR নিয়ে তুলকালাম! নির্বাচন কমিশনারদের মতভেদ নিয়ে বড় দাবি কমিশনের অন্দরে!

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে যখন রাজনৈতিক মহল ও সুপ্রিম কোর্টে বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই নির্বাচন কমিশনের অন্দরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন সামনে এসেছে। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে এসআইআর সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের অন্ধকারে রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল। তবে এই সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে কমিশন সূত্রের দাবি, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারির পর থেকে কমিশনের কোনও সিদ্ধান্তে কোনও কমিশনার ভিন্নমত পোষণ করেননি এবং সমস্ত সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতভাবে নেওয়া হয়েছে।

SIR নিয়ে আসল বিতর্ক কোথায়?

মূলত ভোটার তালিকা যাচাই ও সংশোধন প্রক্রিয়াই হল এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। নির্বাচন কমিশনের মতে, মৃত, ভুয়ো ভোটার কিংবা ঠিকানা বদলে অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তালিকা নিখুঁত করাই এই কাজের লক্ষ্য। পাশাপাশি যোগ্য ভোটারদের নাম যাতে কোনোভাবেই বাদ না যায়, সেটিও নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এই দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়াটি বিকেন্দ্রীভূতভাবে অর্থাৎ ইআরও এবং এইআরও স্তরে পরিচালিত হয়। এছাড়া নতুন ভোটারদের নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এ কোনো পরিবর্তন করা হয়নি বলেই কমিশনের দাবি।

আইনি লড়াই ও বিভিন্ন অভিযোগের জলঘোলা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে আদালতের অন্দরেও আইনি টানাপোড়েন চলছে। কমিশনের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট কখনো এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার নির্দেশ দেয়নি, বরং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা বজায় রেখে তা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। পাশাপাশি গোয়ার কিছু ভোটারের নাম বাদ পড়া, রাহুল গান্ধীর তোলা বেলা এস্টেটের ৭২৭ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ এবং প্রায় ১১ কোটি ভোটারের নাম ফেরানোর দাবি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারিগরি সমস্যা বা মাঠপর্যায়ে যাচাইয়ের সময় অনুপস্থিতির কারণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল, যা নিয়মানুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সবমিলিয়ে, সংবাদমাধ্যমের বিস্ফোরক তদন্ত রিপোর্ট এবং নির্বাচন কমিশনের অন্দরের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের দাবির মাঝে দাঁড়িয়ে এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে জল্পনা বেড়েই চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *