‘সংখ্যালঘুরা লাইন দিয়ে হাত মেলাচ্ছেনা,’-রেজিনগরে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য শুভেন্দুর!

রাজ্য রাজনীতিতে এখন তুঙ্গে উপনির্বাচনের উত্তাপ। বৃহস্পতিবার রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে এক বিশাল জনসভায় যোগ দিয়ে সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সভা থেকে যেমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন, তেমনই উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
সংখ্যালঘুদের সমর্থন ও জয়ের দাবি রেজিনগর উপনির্বাচন নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি দাবি করেন, এলাকার মানুষ সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে উন্নয়ন চাইছেন। সংখ্যালঘু ভোট প্রসঙ্গে তিনি জানান, এতদিন অন্য রাজনৈতিক দলগুলির দিকে ঝুঁকলেও এখন তাঁরা লাইনে দাঁড়িয়ে তাঁর সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন এবং ভোট নষ্ট না করার বার্তা দিচ্ছেন। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন নিয়ে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে। নন্দীগ্রামে জয়ের ব্যবধান ৫০ হাজার না এক লক্ষ ভোট হবে, এখন সেটাই দেখার বিষয় বলে দাবি করেন তিনি।
বাম, কংগ্রেস ও তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ এদিন বিরোধীদের পাশাপাশি শাসকদলকেও একহাত নেন শুভেন্দু। বিধানসভায় বাম ও কংগ্রেসের বর্তমান বিধায়ক সংখ্যা নিয়ে কটাক্ষ করার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি। তাঁর দাবি, শাসকদলের সাংসদ ও বিধায়কদের মধ্যে অনেকেই নেতৃত্ব বদলের পক্ষে মত দিচ্ছেন এবং দলীয় শৃঙ্খলায় ফাটল ধরেছে।
হুমায়ুন কবীরের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক জনসভায় আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। হুমায়ুনের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক লড়াই নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, কিন্তু এই ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অমঙ্গল কামনা অনভিপ্রেত। এর সম্পূর্ণ বিচারের ভার রেজিনগরের সাধারণ মানুষের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন তিনি।
উন্নয়নের জোরালো প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী প্রচারে দাঁড়িয়ে রেজিনগরেরবাসীর জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে এলাকায় নতুন শিল্পতালুক গড়ে উঠবে, যার ফলে পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজ রাজ্যে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি রাস্তাঘাট, কলেজ ও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, বিজেপি প্রার্থী জয়ী হলে আগামী ৯ অক্টোবর তিনি নিজেই এখানে এসে সার্টিফিকেট তুলে দেবেন।