মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের গ্রেফতারি ও পদত্যাগ চাইল তৃণমূল! পালটা বিরোধীদের দেউলিয়াপনা নিয়ে তীব্র তোপ বিজেপির

এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং ভোট জালিয়াতির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেফতারির দাবিতে সরব হলো বিরোধী শিবির। বুধবার দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের বৈঠকের পাশাপাশি কলকাতাতেও সোচ্চার হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। অন্যদিকে, বিরোধীদের সমস্ত আক্রমণকে নস্যাৎ করে একে তাদের ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা’ বলেই দাগিয়ে দিয়েছে রাজ্য বিজেপি।
তৃণমূল শিবিরের চরম হুঁশিয়ারি: রাজ্য বিধানসভায় এক সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দেন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁদের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং চক্রান্তের মাধ্যমে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। এসআইআর পদ্ধতিকে হাতিয়ার করে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং গণনা কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে অভিযোগ করেন, সেদিন তৃণমূলের এজেন্ট ও প্রার্থীকে পর্যন্ত গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এমতাবস্থায় জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেফতারি না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুংকার দিয়েছে শাসকদল। একইসঙ্গে নন্দীগ্রামের ঘটনা ও কংগ্রেস প্রার্থীর জামিন সংক্রান্ত বিষয়েও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করেন তাঁরা।
বিজেপির পালটা জবাব: তৃণমূলের এই আক্রমণকে পাত্তা দিতে নারাজ পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। শিলিগুড়িতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানান, এসআইআর নিয়ে তৃণমূল, সিপিএম এবং কংগ্রেস সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, যা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনাকে স্পষ্ট করে।
তিনি মনে করিয়ে দেন যে এসআইআর প্রক্রিয়া কেবল পশ্চিমবঙ্গে নয়, কেরল, তামিলনাড়ু ও বিহারেও হয়েছে। অথচ অন্যান্য রাজ্যে বিরোধীরা চুপ থাকলেও শুধু পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের নজরদারির ফলেই রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসা ও নৈরাজ্য কমেছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৬ নম্বর ফর্মের সঙ্গে অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই এবং সমস্ত শুনানির কাজ অনলাইনে হবে বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।