হিমালয়ের স্বপ্ন কীভাবে নিমেষে বদলে গেল বিষাদে? ফালুট থেকে সান্দাকফু যাওয়ার পথেই মর্মান্তিক মৃত্যু পর্যটকের

হিমালয়ের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার রোমাঞ্চকর স্বপ্ন মুহূর্তের মধ্যে বিষাদে বদল হলো। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ হাজার ফুট উঁচুতে সান্দাকফু-ফালুট সীমান্ত ট্রেকিং রুটে প্রাণ হারালেন উত্তরবঙ্গের তুফানগঞ্জের এক যুবক। মৃত যুবকের নাম প্রিয়তোষ অধিকারী (২৬)। তিনি কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ নিবাসী দীনবন্ধু অধিকারীর পুত্র। মঙ্গলবার রাতে ফালুট থেকে সান্দাকফু যাওয়ার পথেই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রিয়তোষ একা নন, তাঁর চার জন বন্ধু এবং এক স্থানীয় সিকিম গাইডের সঙ্গে ওই ট্রেকিং অভিযানে বেরিয়েছিলেন। দলটি বাংলা-সিকিম সীমানা থেকে সরাসরি যাত্রার পরিবর্তে সিকিমের ওখরে হয়ে পাহাড়ি ট্রেইল ধরে ফালুটে প্রবেশ করেছিল। ফালুটে পৌঁছানোর পর রাত কাটানোর সময় হঠাৎই তীব্র অসুস্থতা অনুভব করেন প্রিয়তোষ। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, কনকনে ঠান্ডা এবং প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে প্রাথমিক শুশ্রূষার চেষ্টা করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি। রাতের অন্ধকারেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই তরুণ।

খবর পাওয়ার পরই ত্বরিত পদক্ষেপে আসরে নামে পর্যটন দপ্তর ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। সান্দাকফু এবং মানেভঞ্জনে মোতায়েন পর্যটন বিভাগের বিশেষ টিম দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। ল্যান্ড রোভার অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তায় অতি দুর্গম পাহাড়ি পথ থেকে দেহ নামিয়ে এনে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় দার্জিলিং সদর হাসপাতালে। আকস্মিক হৃদরোগ নাকি মারাত্মক ‘অল্টিটিউড সিকনেস’—ঠিক কী কারণে এই মৃত্যু ঘটল, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই তা পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক হরিশঙ্কর পানিক্কর।

হিমালয়ের সিঙ্গলীলা শৈলশিরা ট্রেকারদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও, পর্যাপ্ত শারীরিক প্রস্তুতি ছাড়া হঠাৎ করে অতিরিক্ত উচ্চতায় ওঠার প্রবণতা যে কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, এই ঘটনায় তা ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। গত কয়েক বছরে এই একই রুটে একাধিক পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় পাহাড়ি মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *