লাদাখে চিনের ঘুম ওড়াতে আসছে দেশি ‘জোরাওয়ার’! কেন হঠাৎ ১৮টি ট্যাঙ্কে বড় রফা করল ভারত?

লাদাখের দুর্গম ও বরফে ঢাকা পাহাড়ি রাস্তায় চিনের মোকাবিলা করতে ভারতের ঘরোয়া প্রযুক্তিতে তৈরি ‘জোরাওয়ার’ লাইট ট্যাঙ্ক এবার উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪,২০০ মিটারেরও বেশি উঁচুতে লাদাখের ন্যোমার মতো উচ্চতায় যেখানে সাধারণ ভারী ট্যাঙ্ক বা যন্ত্রপাতির কার্যক্ষমতা কমে যায়, সেখানে ২৫ টন ওজনের এই হালকা ও চটপটে ট্যাঙ্ক ভারতীয় সেনার বড় ভরসা হতে চলেছে। বিশেষ করে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (LAC) ওপারে চিনের টাইপ-১৫ ট্যাঙ্কের জবাবে এই দেশীয় ট্যাঙ্ক এক মোক্ষম অস্ত্র।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও ডিআরডিও-র (DRDO) যৌথ উদ্যোগে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-র মাধ্যমে তৈরি এই ট্যাঙ্কের গতি এবং কার্যকারিতা ইতিমধ্যেই মরুভূমি ও পাহাড়ি ট্রায়ালে সফলভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তবে সেনার বাড়তি চাহিদা এবং উন্নত ফিচারের আপডেটের কারণে প্রোডাকশন প্রক্রিয়ায় যাতে দেরি না হয়, তার জন্য একটি মধ্যপন্থা বেছে নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রাথমিক অর্ডারের প্রথম ধাপে প্রায় ১৮টি ‘জোরাওয়ার মার্ক ১’ (Zorawar Mk1) ট্যাঙ্ক দ্রুত তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী সংস্থাকেও উৎসাহ জোগাবে।
পরবর্তী ধাপে আরও উন্নত সুরক্ষাবলয় এবং শক্তিশালী ইঞ্জিনের সুবাদে ‘জোরাওয়ার মার্ক ২’ (Zorawar Mk2) বাজারে আনা হবে, যাতে অ্যাডভান্সড আর্মার, অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম (APS) এবং ড্রোন প্রতিহত করার মতো জ্যামার যুক্ত থাকবে। ভারতীয় সেনার সামগ্রিক চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই দেশীয় লাইট ট্যাঙ্কের সংযোজন দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রকে আরও কয়েক ধাপ শক্তিশালী করে তুলবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।