৩ বছরের খোঁজ শেষ! পাক এসএসজি কমান্ডো ও লস্কর কমান্ডার হাশিম মুসাকে খতম করল নিরাপত্তা বাহিনী

জম্মু ও কাশ্মীরে বড়সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। দীর্ঘ তিন বছর ধরে তল্লাশির পর অবশেষে নিকেশ করা হয়েছে কুখ্যাত লস্কর-ই-তৈবা কমান্ডার হাশিম মুসা ওরফে ফৌজিকে। বুধবার সকালে বুদগামের কোকেরনাগ জঙ্গল সংলগ্ন পালমেদান এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পাকিস্তানি এই সন্ত্রাসী গত বেশ কয়েক বছর ধরে উপত্যকায় একাধিক বড় নাশকতার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।
নিরাপত্তা সূত্রে জানা গেছে, হাশিম মুসা কেবল সাধারণ কোনো সন্ত্রাসী ছিল না, সে ছিল অত্যন্ত উচ্চ প্রশিক্ষিত এক বিদেশি জঙ্গি। পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিসেস গ্রুপ (SSG) থেকে বিশেষ কমান্ডো প্রশিক্ষণ পেয়েছিল সে। এই সামরিক দক্ষতার জোরেই সে দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে থেকে নিরাপত্তা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে আসছিল।
রক্তাক্ত ইতিহাসের নেপথ্যে মুসা:
তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ২১শে ডিসেম্বর পুঞ্চ-রাজৌরি এলাকার ডেরা কি গলি (DKG) বা সেনা কনভয়ের ওপর হামলার মধ্য দিয়েই প্রথম শিরোনামে আসে মুসার নাম। সেই হামলায় পাঁচ সেনাজওয়ান শহিদ হন এবং দু’জন আহত হন। এরপর থেকেই ওই ঘন জঙ্গল বিদেশি সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীকে এড়াতে সে কখনও পীর পাঞ্চাল পর্বতমালা, আবার কখনও দক্ষিণ কাশ্মীরের বিভিন্ন জঙ্গলকে নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করত।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৪ঠা মে পুঞ্চের শাহসিতারে ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) কনভয়ের ওপর বর্বরোচিত হামলার পিছনেও মুসার সরাসরি যোগসূত্র মিলেছিল। সেই হামলায় এক আইএএফ জওয়ান শহিদ হন এবং চারজন আহত হন। পরবর্তীতে পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলার পরই প্রথম হাশিম মুসার আসল পরিচয় ও ছবি প্রকাশ্যে আসে, যার পরেই গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী তার খোঁজে তল্লাশি আরও তীব্র করে তোলে।
অবশেষে ‘অপারেশন কারাগ’ (Operation Karagar)-এর অধীনে চলা একটানা অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী এই বিপজ্জনক সন্ত্রাসীকে নিকেশ করতে সক্ষম হয়। উপত্যকায় শান্তি বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনীর এই সাফল্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও সামরিক মহল।