সুগার কি আচমকা হুড়মুড়িয়ে নামছে বা বাড়ছে? অজান্তেই কোন বড় বিপদ ডেকে আনছেন না তো!

রক্তে শর্করার মাত্রায় সামান্য ওঠানামা স্বাভাবিক হতে পারে, তবে ঘন ঘন বা চরম মাত্রার ওঠানামা শরীরে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বারবার জোর দিয়ে বলেন, রক্তে শর্করার মাত্রা কেবল কমিয়ে আনাই যথেষ্ট নয়, বরং একে একটি নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত সীমার মধ্যে রাখাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, রক্তে শর্করার মাত্রা খুব কমে যাওয়া অর্থাৎ হাইপোগ্লাইসেমিয়া এবং খুব বেড়ে যাওয়া অর্থাৎ হাইপারগ্লাইসেমিয়া—উভয় অবস্থাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

হাইপোগ্লাইসেমিয়া: সুগার বিপজ্জনকভাবে কমে গেলে কী করবেন?
সাধারণত রক্তে শর্করার মাত্রা ৭০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার বা তার কম হলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হিসেবে ধরা হয়। ইনসুলিনের মাত্রাতিরিক্ত ডোজ গ্রহণ, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা স্বাভাবিক রুটিনের বাইরে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণে এমনটা হতে পারে।

লক্ষণ ও প্রাথমিক প্রতিকার: হঠাৎ করে স্নায়বিক উত্তেজনা, অস্থিরতা, ঘাম বা কাঁপুনি দেখা দিলে এবং সুগার ৭০-এর নিচে নেমে গেলে দ্রুত কাজ করে এমন প্রায় ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করুন। যেমন ১০০ থেকে ১৫০ মিলি সাধারণ মিষ্টি পানীয় বা গ্লুকোজ জল।

রুল অফ ১৫-১৫: খাবার খাওয়ার ১৫ মিনিট পর পুনরায় রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন। যদি তা এখনও ৭০-এর নিচে থাকে, তবে আরও ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করুন। এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘রুল অফ ১৫-১৫’ নামে পরিচিত।

সতর্কতা: ব্যায়ামের ঠিক আগে সুগার কম থাকলে একটি ফল বা এক কাপ দুধ খেতে পারেন। তবে খাবার খাওয়ার ঠিক পরপরই ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকুন।

হাইপারগ্লাইসেমিয়া: রক্তে সুগার হঠাৎ বেড়ে গেলে কী করণীয়?
ওষুধ বা ইনসুলিনের ডোজ বাদ পড়া, অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ, মানসিক চাপ কিংবা অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ হু হু করে বেড়ে যেতে পারে।

সুগার ২৫০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার বা তার বেশি হয়ে গেলে এবং তার সঙ্গে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, বমি, শ্বাসকষ্ট বা চরম দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এটি প্রতিরোধ করতে ডায়েটে পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার বা ফাইবার এবং প্রোটিন অন্তর্ভুক্ত করুন। মানসিক চাপ বা ঘুমের সমস্যা থাকলে দৈনন্দিন রুটিনে তার যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ৪টি জরুরি নিয়ম
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য শুধু ওষুধ খেলেই চলবে না, জীবনযাত্রায় কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বদল আনা দরকার:

খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা: পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বা ময়দা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। পরিবর্তে পূর্ণ শস্য এবং উচ্চ-আঁশযুক্ত জটিল কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর চর্বির সুষম সমন্বয় রাখুন।

ওষুধ ও ইনসুলিনের সঠিক ব্যবহার: না বুঝে ঘন ঘন ইনসুলিনের মাত্রা পরিবর্তন করবেন না। সঠিক ইনজেকশন পদ্ধতি, স্থান পরিবর্তন এবং সঠিক তাপমাত্রায় ইনসুলিন সংরক্ষণ করা সমানভাবে জরুরি।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: শরীরে অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা স্ট্রেস থাকলে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যা রক্তে গ্লুকোজের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। তাই স্ট্রেস কমানোর অভ্যাস করুন।

পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুমের অভাব ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে এবং পরোক্ষভাবে রক্তে শর্করার মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিদিনের রুটিনে পর্যাপ্ত ও ভালো মানের ঘুম নিশ্চিত করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *