আজকের ১ কোটি টাকা ভবিষ্যতে হয়ে যাবে মাত্র ৩১ লক্ষ! মুদ্রাস্ফীতির মারণ কোপ থেকে পুঁজি বাঁচাবেন কীভাবে?

আজকের দিনে ১ কোটি টাকা মানে একটি বিশাল অঙ্কের পুঁজি। সাধারণ মানুষের কাছে যা সারাজীবনের উপার্জনের সমতুল্য বা বড় কোনো আর্থিক লক্ষ্যের প্রতীক। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধির জেরে আগামী দিনে এই টাকার আসল ক্রয়ক্ষমতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে কি কখনও ভেবে দেখেছেন? আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির কোপে টাকার মান কীভাবে কমে যায়, তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
ভবিষ্যতে ১ কোটি টাকার আসল মান কত হবে?
যদি আগামী ২০ বছর ধরে দেশের গড় মূল্যবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ হারে চলতে থাকে, তবে বর্তমানে যে পরিমাণ জিনিস বা পরিষেবা ১ কোটি টাকায় কেনা সম্ভব, ভবিষ্যতে তা কিনতেই প্রায় ৩ কোটি ২০ লক্ষ টাকা খরচ করতে হবে। অর্থাৎ, মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে আপনার জীবনযাত্রার সেই একই খরচ প্রায় তিনগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাবে।
অন্যদিকে, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বা বিনিয়োগে জমানো ১ কোটি টাকা অঙ্কের বিচারে কাগজ কলমে ১ কোটি টাকাই থাকবে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার ক্রয়ক্ষমতা বা জিনিস কেনার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে। হিসাব বলছে, ৬ শতাংশ হারে ২০ বছর ধরে মূল্যবৃদ্ধি চললে, ভবিষ্যৎকালের সেই ১ কোটি টাকার আসল ক্রয়ক্ষমতা আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার সমান হয়ে দাঁড়াবে!
দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনায় কোন বিষয়গুলি মাথায় রাখা দরকার?
-
ভবিষ্যতের খরচ নির্ধারণ: অবসরকালীন জীবন, সন্তানের উচ্চশিক্ষা কিংবা নিজের স্বপ্নের বাড়ি কেনার মতো দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ঠিক করার সময় শুধু বর্তমানের খরচ হিসেব করলেই বড় ভুল হতে পারে। মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য হার যুক্ত করেই ভবিষ্যতের সঠিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।
-
প্রকৃত রিটার্ন (Real Return) হিসাব করা: যেকোনো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নামমাত্র বা নমিনাল রিটার্ন দেখলে চলবে না। বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ থেকে মুদ্রাস্ফীতির হার বাদ দেওয়ার পর আপনার হাতে প্রকৃত রিটার্ন কত থাকছে, সেটির ওপর নজর দেওয়া আবশ্যক।
-
কর এবং মুদ্রাস্ফীতির দ্বিমুখী প্রভাব: মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি বিনিয়োগের ওপর প্রযোজ্য কর বা ট্যাক্সের প্রভাবও চূড়ান্ত রিটার্ন কমিয়ে দেয়। তাই আর্থিক লক্ষ্য নির্ধারণের সময় এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে একসঙ্গে হিসেবের মধ্যে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।