উত্তরপ্রদেশ-রাজস্থানের হাওয়া এবার বাংলায়! ডানলপে গো-মাতার পুজোয় দুই সম্প্রদায়ের মহাসমাবেশ

উত্তরপ্রদেশ বা রাজস্থানের মতো গো-বলয়ের ছবি এবার সরাসরি দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গে। ডানলপের শ্রীশ্রী মা ঈশ্বর পীঠ ও সেবাশ্রমে (ঈশ্বর মন্দির) অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো গো-রক্ষা এবং গো-মাতা পুজোর বর্ণময় আয়োজন। রাষ্ট্রীয় গো রক্ষা বাহিনীর গো সেবা সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নজর কেড়েছে। সব ভেদাভেদ ভুলে এদিন এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে গো-মাতার পুজোয় অংশ নেন দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
দিল্লি থেকে এসে পুজোয় অংশ নিলেন মুসলিম নেতারা
এদিনের এই আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন বিশিষ্ট সংখ্যালঘু নেতারা। রাষ্ট্রীয় গো রক্ষা বাহিনী গৌ সেবা সংঘের মাইনরিটি উইংস-এর ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট মহম্মদ ইকবাল ত্যাগী নিজে দিল্লি থেকে এসে এই পুজোয় অংশ নেন এবং সনাতনী মতে গো-মাতার পুজো করেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের আহ্বায়ক আলি আফজল, মাইনরিটি ফোরাম ওয়েস্ট বেঙ্গল-এর প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোল্লা এবং ডানলপ ঈশ্বর মন্দিরের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি স্বামী ঈশ্বরানন্দ প্রভু।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহম্মদ ইকবাল ত্যাগী বলেন, গো-সেবা ও গো-মাতার সম্মান রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য। তিনি আরও দাবি জানান যে, রাজ্যে বেদখল হয়ে যাওয়া গোচারণভূমিগুলি অবিলম্বে দখলমুক্ত করে গো-পালনের ব্যবস্থা করা হোক। একইসঙ্গে গরু পাচার ও গো-হত্যার সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।
সম্প্রীতির বার্তা ও কড়া হুংকার
অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মাইনরিটি ফোরামের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, রাজ্যে কিছু মানুষ অহেতুক বিভাজন তৈরি করতে চাইলেও যুগ যুগ ধরে মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। গরু চুরির মতো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, গো-মাতা বিশ্বমাতা, আর এই পুজোয় দুই সম্প্রদায়ের উপস্থিতি সমাজে বন্ধুত্বের এক অনন্য বার্তা দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ডানলপের এই অভিনব গো-পুজো ও দুই সম্প্রদায়ের একসঙ্গে হাত মেলানো রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।