ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অজান্তেই কাটছে টাকা? আপনার এটিএম কার্ডের চার্জ কত জানেন কি?

আপনার পকেটে থাকা স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (SBI) ডেবিট বা এটিএম কার্ডটি আপনি নিয়মিত ব্যবহার করছেন কি না, তার চেয়েও বড় কথা হলো আপনার কাছে ঠিক কোন ক্যাটাগরির কার্ড রয়েছে। কারণ আপনি হয়তো খেয়ালই করছেন না, অথচ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত কেটে নেওয়া হচ্ছে নির্দিষ্ট অঙ্কের বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ বা এএমসি (AMC) চার্জ। এসবিআইয়ের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কার্ড নেওয়ার দ্বিতীয় বছর থেকে এই চার্জ প্রযোজ্য হয়। কোন কার্ডে কত বার্ষিক চার্জ কাটা হয়? এসবিআইয়ের নিয়মমাফিক বিভিন্ন ডেবিট কার্ডের বার্ষিক মেইনটেন্যান্স চার্জ ভিন্ন হয়ে থাকে। একনজরে দেখে নিন কোন কার্ডের জন্য কত টাকা বার্ষিক কর সহ দিতে হয়:ক্লাসিক, সিলভার, গ্লোবাল এবং কন্ট্যাক্টলেস কার্ড: এই সাধারণ কার্ডগুলির বার্ষিক চার্জ ২০০ টাকা ও তার সঙ্গে জিএসটি। যুবা, গোল্ড এবং কম্বো ডেবিট কার্ড: এই ক্যাটাগরির কার্ডগুলির জন্য বার্ষিক ২৫০ টাকা ও কর দিতে হয়। প্ল্যাটিনাম কার্ড: এই প্রিমিয়াম কার্ডে ৩২৫ টাকা ও কর কাটা হয়। প্রাইড এবং প্রিমিয়াম বিজনেস কার্ড: এগুলির বার্ষিক চার্জ ৪২৫ টাকা ও কর। অন্যান্য কার্ড: ‘মাই কার্ড’ বা ছবি দেওয়া কাস্টমাইজড কার্ডের চার্জ ২৫০ টাকা, মাস্টারকার্ড ওয়ার্ল্ড ডেবিট কার্ডে ৮০০ টাকা এবং এইচপিসিএল কার্ডে ৩৫০ টাকা ও কর ধার্য করা হয়। তবে একটি বড় স্বস্তির বিষয় হলো, আপনার যদি ব্যাংকে স্যলারি অ্যাকাউন্ট (Salary Account) থাকে, তবে ডেবিট কার্ডের এই বার্ষিক চার্জ সম্পূর্ণ ফ্রি থাকে। অন্যান্যা ফি ও জরিমানার বহরশুধু বার্ষিক চার্জই নয়, ব্যাঙ্কের একাধিক পরিষেবাতেও অতিরিক্ত ফি দিতে হয় গ্রাহকদের। যেমন— ডেবিট কার্ড হারিয়ে গেলে বা নতুন কার্ড ইস্যু করাতে গেলে ৩০০ টাকা ও কর দিতে হয়। ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে পিন তৈরি করলে ৫০ টাকা ও কর কাটা হয়।অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকার কারণে এটিএম বা পিওএস (PoS) মেশিনে লেনদেন ব্যর্থ বা বাতিল হলে ২০ টাকা ও কর জরিমানা দিতে হয়।বিদেশি লেনদেন ও ফ্রি লিমিটের নিয়ম বিদেশের এটিএম থেকে টাকা তুললে ন্যূনতম ১০০ টাকা এবং মোট লেনদেনের পরিমাণের ৩.৫ শতাংশ ও কর কেটে নেয় ব্যাঙ্ক। এছাড়া বিদেশে অনলাইনে বা পিওএস মেশিনে কেনাকাটা করলে ৩ শতাংশ ও কর দিতে হয়। দেশের ভেতরে এটিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট ভেদে নির্দিষ্ট সংখ্যক ফ্রি লেনদেনের সুযোগ মিললেও, সেই সীমা পেরোলেই অতিরিক্ত চার্জ কাটা হয়। অনলাইন পেমেন্ট বা ইউপিআই-এর যুগে অনেকেই এখন এটিএম কার্ড কম ব্যবহার করেন। তবে জরুরি প্রয়োজনে কার্ডের ব্যবহার এড়ানো যায় না। তাই অ্যাকাউন্ট থেকে অতিরিক্ত অর্থ কাটা যাওয়ার আগেই আপনার কার্ড ও অ্যাকাউন্টের ক্যাটাগরি ভালোভাবে যাচাই করে নিন।