কার হাতে যাবে জোড়াফুল? নির্বাচন কমিশনকে চরম সময়সীমা বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট, রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল

অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) নাম এবং দলের ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ (ফ্লাওয়ার অ্যান্ড গ্রাস) প্রতীক সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদী বিবাদে এবার বড় ধরনের কড়া পদক্ষেপ নিল দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার শুনানিতে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনকে (ECI) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী চার মাসের মধ্যে এই বিরোধের স্থায়ী ও চূড়ান্ত সমাধান করতে হবে।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জেসোয়ালিয়া বাগচি এবং বিচারপতি ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ এই নির্দেশিকা জারি করেছে। আদালত জানিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে উভয়পক্ষকে তাদের নিজ নিজ সওয়াল-জবাব এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা হলফনামা জমা দিতে হবে। এরপরে নির্বাচন কমিশন তিন মাসের মধ্যে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

কিসের ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল এই বিতর্ক?

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের গত ১৭ সেপ্টেম্বরের একটি সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ওই নির্দেশিকায় দলীয় দ্বন্দ্ব ও দুই বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান উত্তেজনার জেরে AITC-এর নাম এবং প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ বা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কমিশন।

মামলার শুনান্দি চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে, তাঁদের পক্ষ থেকে আগেই জুলাই মাসে সমস্ত জবাব দাখিল করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতকে জানান যে, রাজনৈতিক দলগুলির কর্মী-সমর্থকদের দিক থেকে প্রচুর সংখ্যায় হলফনামা আসার কারণে এই ধরনের মামলাগুলিতে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক। তবে বিচারপতি বাগচি পরামর্শ দেন যে, দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে কমিশন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI টুলের সাহায্য নিতে পারে, যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গোটা প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হয়। সব মিলিয়ে, আসন্ন দিনগুলিতে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক কার দখলে থাকে, তা নিয়ে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলের নজর এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *