২০২৭-এর পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন: ৫৩টি আসন টার্গেট করে মেগা পরিকল্পনা বিজেপির, অস্বস্তিতে কেজরিওয়াল

আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ময়দানে যে ফর্মুলা প্রয়োগ করে দল সাফল্য পেয়েছিল, ঠিক সেই ‘বাংলা মডেল’ এবার পাঞ্জাবেও অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পদ্ম শিবির। আম আদমি পার্টি (আপ) এবং কংগ্রেসের চিরাচরিত শক্ত ঘাঁটিগুলোতে হানা দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্ত করাই এখন বিজেপির মূল লক্ষ্য।
পাঞ্জাবে বিজেপির ‘বেঙ্গল মডেল’ আসলে কী?
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি যেভাবে সরাসরি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট ও দুর্গ হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতে (যেমন ভবানীপুর, নন্দীগ্রাম বা কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ) আগ্রাসী প্রচার চালিয়েছিল, পাঞ্জাবেও ঠিক একই রণকৌশল নেওয়া হয়েছে। পাঞ্জাবের ১১৭টি বিধানসভা আসনের মধ্যে বিশেষভাবে ৫৩টি আসনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে আপ ও কংগ্রেস ঐতিহ্যগতভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী।
বিজেপি নেতৃত্ব মনে করছে, পাঞ্জাবের ভোটারদের সামনে নিজেদের একটি শক্তিশালী এবং বিকল্প সরকার গড়ার যোগ্য শক্তি হিসেবে তুলে ধরাই এই কৌশলের মূল চাবিকাঠি। সেই উদ্দেশ্যে আপ এবং কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিগুলোতে প্রভাবশালী ও বিজয়ী নেতাদের চিহ্নিত করে তাঁদের দলে টানার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
লোকসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান ও বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ
গত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করেই এই নতুন রূপরেখা তৈরি করেছে বিজেপি। ওই নির্বাচনে পাঞ্জাবের ১৩টি লোকসভা আসনের মধ্যে কংগ্রেস সাতটিতে এবং আপ মাত্র তিনটিতে জয় পেয়েছিল। বিধানসভাভিত্তিক ফলাফল বিচার করলে দেখা যায়, কংগ্রেস ৩৭টি এবং আম আদমি পার্টি ৩৩টি আসনে এগিয়ে ছিল। আর এখানেই বিজেপি ২৩টি বিধানসভা আসনে এগিয়ে থেকে নিজেদের সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত দেখতে পাচ্ছে।
বর্তমানে আপ সরকারের বিরুদ্ধে জনমনে যে সরকারবিরোধী মনোভাব তৈরি হচ্ছে, তাকেই নিজেদের অনুকূলে আনতে চাইছে বিরোধীরা। এর পাশাপাশি, ‘থ্রি সি’ অর্থাৎ অপরাধ, দুর্নীতি এবং মাদকের মতো জ্বলন্ত ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে আপ সরকারকে লাগাতার আক্রমণ করছে বিজেপি। পাঞ্জাবে বিজেপির এই মুহূর্তে চলা মাদকবিরোধী পদযাত্রার সমাপ্তি অনুষ্ঠান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন মোদী সরকারের সাফল্যের প্রচার চলছে, তেমনই বিরোধীদের কোণঠাসা করার সুনির্দিষ্ট ছক কষে এগোচ্ছে দল।