স্কুল ব্যাগ না আনায় ৫ বছরের শিশুকে মাটিতে আছড়ে ফেলল শিক্ষক! যন্ত্রণায় ভেঙে গেল কচি পা, ছতরপুরে চরম হুলস্থুল

সামান্য একটি ভুলের জেরে ৫ বছরের একরত্তি শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠল এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। স্কুল ব্যাগ না আনার অপরাধে ওই শিশুকে ক্লাসরুমের মেঝেতে সজোরে আছড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই অমানবিক মারধরের জেরে শিশুটির পায়ের হাড় ভেঙে যায় এবং বর্তমানে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাখতে হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ছতরপুর জেলার ভগवां থানা এলাকায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মড়ীখেড়া গ্রামের বাসিন্দা ৫ বছরের শিশু নীরজ লোদী ‘ওম জ্ঞান মন্দির’ নামের একটি বেসরকারি স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। গত ২৩ সেপ্টেম্বর স্কুল চলাকালীন ব্যাগ না আনার অজুহাতে শিক্ষক তথা স্কুল চালক রবীন্দ্র শুক্লা শিশুটির ওপর চড়াও হন। অভিযোগ, ক্লাসের মধ্যে ওই শিক্ষক শিশুটিকে শূন্য থেকে সোজা মাটিতে সজোরে আছড়ে ফেলেন। এর ফলে শিশুটির উরুর কাছে হাড় গুরুতরভাবে জখম হয় এবং তার পা ভেঙে যায়।

চিকিৎসার খরচ দিতে অস্বীকার!

ঘটনার পর ব্যথায় কুঁকড়ে যাওয়া শিশুটিকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে শিক্ষক পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। পরিবারের লোকজনের দাবি, শিক্ষক নিজেই তাঁদের জানান যে চিকিৎসার খরচ তিনি দেবেন। কিন্তু শিশুটিকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রোপচার করানোর পর যখন চিকিৎসকরা তার পায়ে ধাতব রড বসান, তখন চিকিৎসার বিপুল খরচ দেখে পিছিয়ে আসেন ওই শিক্ষক। পরে তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় বাধ্য হয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার কঠোর শাস্তি দাবি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষক রবীন্দ্র শুক্লার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র সংশ্লিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। আহত শিশুটিকে এক্স-রে ও প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষার জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক শিক্ষকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *