মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ! আগ্রার বাসভবনে চড়াও যুব কংগ্রেস

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) নিরপেক্ষতা ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ‘এসআইআর’ (SIR) বিতর্ককে কেন্দ্র করে বেনজির উত্তেজনার সাক্ষী রইল দেশ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঝড় বইছে। এর মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় অবস্থিত সিইসির ব্যক্তিগত বাসভবনের মূল গেটে কালি লেপে ‘জ্ঞানেশ গদ্দার’ ও ‘ভোট চোর’ লিখে দিল জাতীয় যুব কংগ্রেস ও কংগ্রেস কর্মীরা।

সোমবার সকালে আগ্রার বিজয় নগর এলাকায় জ্ঞানেশ কুমারের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে তীব্র স্লোগান তোলেন কংগ্রেস কর্মীরা। বাড়ির সামনে পোস্টার সাঁটানোর পাশাপাশি কালো স্প্রে দিয়ে মূল গেটে আপত্তিকর স্লোগান লিখে দেওয়া হয়। এই ঘটনার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

‘দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’, তোপ কংগ্রেসের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে পোস্ট করে কংগ্রেসের তরফে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বার্তা দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, “আগ্রায় জ্ঞানেশ গদ্দারের বাড়িতে কালি ছিটিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে যেভাবে বিভিন্ন নির্বাচনে কারচুপি করা হয়েছে, তা দেশের বিরুদ্ধে চরম দেশদ্রোহিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।”

কংগ্রেস নেতৃত্বের জোরালো দাবি, নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রাই ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাজেন্দ্র পাল গৌতম অভিযোগ তুলেছেন যে, স্বাধীন, অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করার সাংবিধানিক নির্দেশ থাকলেও, সিইসি জ্ঞানেশ কুমার প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে শাসকদলকে অনুচিত সুবিধা দিচ্ছেন।

দেশজুড়ে আছড়ে পড়ল বিক্ষোভের ঢেউ শুধু আগ্রা নয়, সোমবার একযোগে মুম্বই, পুণে, ভোপাল, শ্রীনগর থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনের সামনে আছড়ে পড়ে কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচি। মহারাষ্ট্রের পুণেতে জেলা কালেক্টরেট অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়ে অতিরিক্ত কালেক্টরের হাতে প্রতিবাদ স্মারকপত্র জমা দেন কর্মীরা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত ও ভোটার ডেটাবেস হস্তান্তরের বিষয়ে জ্ঞানেশ কুমারের একতরফা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কমিশনের অন্দরেই অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন—এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে বারবার দাবি করা হয়েছে যে, সমস্ত সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছিল। তবে এই বিরোধিতার জেরে আগামী দিনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *