‘হিমালয়ে ভয়াবহ তুষারধস, হুড়মুড়িয়ে ভেসে গেল ঘরবাড়ি!’ নেপালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃত বেড়ে ১৪, নিখোঁজ ১০

ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপালে ফের এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেমে এল বড় বিপর্যয়। মানাং জেলার ৭,১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং পর্বতের বেস ক্যাম্পে আচমকা এক ভয়াবহ তুষারধস নামে। ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDRRMA) সূত্রে জানা গেছে, এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দু’জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও অন্তত ১০ জন পর্বতারোহী ও কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধারকাজে ব্যাপক বেগ পেতে হচ্ছে।

ধসের কবলে বেস ক্যাম্প: সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে আবহাওয়ার খারাপ হওয়ার পূর্বাভাস পেয়েই বেশিরভাগ অভিযাত্রী ও গাইড পাহাড়ের ঢাল থেকে নেমে এসেছিলেন। তবে কিছু মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সেখানেই থেকে যান। রবিবার সকালে হঠাৎই হিমলুং পর্বতের বেস ক্যাম্পে এই তুষারধস নামে। নিখোঁজদের মধ্যে দুই কিচেন স্টাফও রয়েছেন। উচ্চতা বেশি হওয়ায় এবং ৭,১২৬ মিটার উঁচুতে হেলিকপ্টার নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হওয়ায় সেখানে দ্রুত পৌঁছানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

দেশজুড়ে বন্যা ও ভূমিধসের তাণ্ডব: শুধু তুষারধসই নয়, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি শক্তিশালী আবহাওয়া চক্রের জেরে গত বৃহস্পতিবার থেকে নেপালের সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি চলছে। এর জেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। মধ্য নেপালের নারায়ণী নদীর জলস্তর ৯ মিটারের বিপদসীমা পার করে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলির জন্য চরম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পাশাপাশি, ম্যাংডি ও বাগলুং জেলাতেও ভূমিধসে একাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর মিলেছে। কালীগণ্ডকী নদীর জলের তোড়ে বহু বাড়িঘর ও সেতু ভেসে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের জেরে গত বৃহস্পতিবার থেকে এখনও পর্যন্ত নেপাল জুড়ে মোট ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিরাপদ আশ্রয়ে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নিতে মাঠে নেমেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। পর্যটন দপ্তরের পক্ষ থেকেও পর্যটক ও ট্রেকারদের আপাতত সমস্ত অভিযান স্থগিত রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *