‘হঠাৎ বিকট শব্দে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল তিনতলা!’ হরিয়ানার ভয়াবহ ভবন ধসে ১৫-২০ জনের আটকে থাকার আশঙ্কায় কাঁপছে দেশ

রবিবার সন্ধ্যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল হরিয়ানার অম্বালা। ধূলকোট গ্রামে একটি নির্মীয়মাণ তিনতলা ভবন হঠাৎ করেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ধ্বংসস্তূপের নীচে ঠিক কতজন মানুষ আটকে রয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ: ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তৎপরতার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করতে মাঠে নেমেছে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF), স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (SDRF), দমকল বাহিনী এবং একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স।
অম্বালা সিটি এসডিএম দর্শন কুমার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চারজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও, পাঁচজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করার পাশাপাশি মোট ১২ জন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
চম্পট দিয়েছে মালিক ও ঠিকাদার: ঠিক কী কারণে এই নির্মীয়মাণ ভবনটি আচমকা ভেঙে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভবনটির আইনি বৈধতা এবং মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, দুর্ঘটনার পর থেকেই ভবনের ঠিকাদার এবং মালিক দু’জনেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পেছনে যাঁদেরই গাফিলতি বা ত্রুটি পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ জোরকদমে চলছে।